“গণতন্ত্রের মহোৎসব ভারতে!” বাংলার ভোট পরিচালনা দেখে কেন মুগ্ধ ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা?

ভারতের নির্বাচনী রণকৌশল এবং প্রযুক্তির দাপট দেখে কার্যত তাজ্জব গোটা বিশ্ব। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন চাক্ষুষ করতে ভারতে এসেছিলেন ১৬টি দেশের ৩২ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইলেকশন ভিজিটরস প্রোগ্রাম (IEVP) ২০২৬’-এর অধীনে এই সফর শেষে বিদেশি প্রতিনিধিদের সাফ কথা— “ভারতের নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রের এক প্রকৃত উদযাপন।”

শিলিগুড়ির ব্যস্ততা ও নিখুঁত পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলটি মূলত তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণের কেন্দ্র (Dispersal Centre) পরিদর্শন করে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি মেলিসা অ্যান এম টেলেন মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “ভোট কর্মকর্তাদের ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে মুভমেন্ট দেখা ছিল এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সুসংগঠিত।”

প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্বচ্ছতায় জোর

ভোটকেন্দ্রগুলোর শতভাগ ওয়েবকাস্টিং দেখেও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধিরা। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি প্রতিটি বুথের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পদ্ধতিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বড় হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা। তাদের মতে:

  • হোম ভোটিং: প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাটিকে তারা “চমৎকার উদ্যোগ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

  • অন্তর্ভুক্তিমূলক বুথ: মহিলা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ ভোটকেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের বিশেষ নজর কেড়েছে।

“ভারতের থেকে বিশ্ব শিখছে”

চেন্নাইয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে মরিশাসের হাই কমিশনার শীলাবাই বাপ্পু বলেন, “ভারত আজ বিশ্বকে শিখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে এত বড় মাপের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। ভোটারের দুয়ারে ভোটকে পৌঁছে দেওয়াটাই আসল গণতন্ত্র।”

দার্জিলিং এবং চেন্নাইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় প্রতিনিধিরা বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিটি বুথে র‍্যাম্প, হুইলচেয়ার ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতির প্রশংসা করেন। তাদের মতে, ভারতের এই নির্বাচনী মডেল কেবল নিখুঁত নয়, এটি অংশগ্রহণমূলক এবং মানবিকও বটে।