“মা-মাটি-মানুষের নাম নিলেই তৃণমূলের পাপ বেরিয়ে আসবে!” উত্তর ২৪ পরগনায় দাঁড়িয়ে মমতা সরকারকে তুলোধুনো মোদীর!

বঙ্গ নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তের লড়াই এখন তুঙ্গে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফার মহারণ। তার আগে রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “তৃণমূলের নির্মমতা মায়েদের কাঁদিয়েছে, মাটিকে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে আর বাংলার মানুষকে করেছে দেশান্তরী।”

“মা-মাটি-মানুষ বললেই পাপ সামনে আসবে!”

প্রধানমন্ত্রী এদিন তৃণমূলের আদি স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “১৫ বছর আগে এই স্লোগান দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, আজ তারা এই নাম মুখে আনতেও ভয় পায়। কারণ এই নাম নিলেই তৃণমূলের সমস্ত পাপ চোখের সামনে ভেসে উঠবে।”

নিয়োগ দুর্নীতি ও সন্দেশখালি নিয়ে আক্রমণ

রাজ্য সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন ‘শূন্য’— এই দাবি করে মোদী একাধিক উদাহরণ টানেন:

  • নিয়োগ দুর্নীতি: মোদী বলেন, “সরকার সৎ হলে নিজেই তদন্ত করত, কিন্তু এখানে আদালতকে তদন্তের নির্দেশ দিতে হয়েছে।”

  • সন্দেশখালি: প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সন্দেশখালিতে বোনেদের ওপর হওয়া অন্যায়ে সরকার নির্লজ্জভাবে অপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে।

  • পঞ্চায়েত ভোট: পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই আদালতকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হয়েছে।

লক্ষ্য মহিলা ভোট: মোদীর একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন:

  • আর্থিক সাহায্য: প্রতি বছর মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩৬,০০০ টাকা পাঠানো হবে।

  • শিক্ষা ও বিবাহ: মেয়েরা গ্র্যাজুয়েশন পাস করলে সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৫০,০০০ টাকা। গর্ভাবস্থায় দেওয়া হবে ২১,০০০ টাকা

  • স্বাস্থ্য ও চাকরি: ব্রেস্ট ও সার্ভাইকাল ক্যান্সারের টিকা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে মিলবে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে মেয়েদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

“অহংকার ভেঙেছে তৃণমূলের”

প্রথম দফার ভোটের পর তৃণমূলের ‘অহংকার’ চুরমার হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মোদী। সিঙ্গুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনা— সর্বত্রই এখন মানুষের একটাই আওয়াজ, “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ২৯ এপ্রিলের ভোটে বিজেপির জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।