স্ত্রী-সন্তানের সামনেই নির্মম মৃত্যু! আসানসোলে যুবক খুনে পুলিশের জালে ৩, আবাসন রক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য

শিল্পাঞ্চল আসানসোলে চাঞ্চল্যকর দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। স্ত্রী ও একরত্তি শিশুপুত্রের সামনেই নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত তুচ্ছ বচসা থেকে: পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার রাতে দেবদীপবাবু তাঁর পরিবার নিয়ে একটি অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। বার্নপুর রোডের ভগত সিং মোড়ে এক বাইক আরোহীর সাথে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সেনর্যালে রোডের রেল ব্রিজের কাছে ফের এক বাইক আরোহীর সঙ্গে ঝামেলা ও হাতাহাতি হয় দেবদীপের। অভিযোগ, সেই রেশ টেনেই একদল মত্ত যুবক দেবদীপের পিছু ধাওয়া করে তাঁর আবাসন ‘নব অনন্যা হাউসিং কমপ্লেক্স’-এর গেট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
স্ত্রী’র আকুতিতেও মন গলেনি ঘাতকদের: প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আবাসনের গেটের সামনে দেবদীপকে বাইক থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে মত্ত যুবকরা। স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে অভিযুক্তদের হাতে-পায়ে ধরেন তাঁর স্ত্রী, কিন্তু তাতেও মন গলেনি হামলাকারীদের। মারধরের চোটে অচৈতন্য হয়ে পড়েন দেবদীপ। পুলিশের দাবি, দেবদীপ নিজেও সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, তাই পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি নেশার ঘোরে অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন। আঘাতের গভীরতা বুঝতে না পেরে রাতেই তাঁকে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তারক্ষীদের রহস্যজনক ভূমিকা: এই ঘটনায় আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। ডিসি ধ্রুব দাস জানান, “সিসিটিভিতে দেখা গেছে, আবাসনের গেটের ঠিক বাইরেই একজন বাসিন্দাকে মারধর করা হচ্ছিল, অথচ নিরাপত্তারক্ষীরা গেট খোলেননি। চোখের সামনে এমন অপরাধ ঘটতে দেখেও কেন তাঁরা বাঁচাতে এগিয়ে এলেন না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিতর্ক ও পুলিশের অবস্থান: ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে ওঠে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি ছিল, দেবদীপ তাঁদের সমর্থক ছিলেন এবং কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডীর নাম নেওয়ার কারণেই তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। যদিও পুলিশ এই দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছে, ধৃতরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। মূলত মদ্যপ অবস্থায় বচসা থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রবিউল আলম ও শুভজিৎ মণ্ডলের নাম এফআইআর-এ ছিল। এছাড়া আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ।