টন টন রুপো উধাও? বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দানসামগ্রী গলাতেই বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর সত্য!

ভক্তি আর বিশ্বাসের আড়ালে এ এক বিশাল বড় প্রতারণা! জম্মু-কাশ্মীরের বিশ্বখ্যাত পবিত্র শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া রুপোর দানে মিলল ভয়ংকর জালিয়াতির প্রমাণ। যে রুপোর ভাণ্ডারের বাজারমূল্য হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি, টাঁকশালে গলানোর পর দেখা গেল তার প্রকৃত মূল্য মাত্র ৩০ কোটি টাকা!

রুপোর বদলে মিলল বিষাক্ত ধাতু

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ড প্রায় ২০ টন ওজনের রুপোর অলঙ্কার ও সামগ্রী সরকারি টাঁকশালে পাঠিয়েছিল প্রক্রিয়াকরণের জন্য। আধিকারিকরা আশা করেছিলেন, কেজি প্রতি ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দরে এর মূল্য হবে বিপুল। কিন্তু ল্যাবে পরীক্ষার পর দেখা যায়, দান করা সামগ্রীর মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ আসল রুপো! বাকি সবটুকুই সস্তার ক্যাডমিয়াম এবং লোহা।

৪০০ টাকার ক্যাডমিয়ামে ৫০০ কোটির ধাপ্পা

বাজারে যেখানে রুপোর দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে ক্যাডমিয়ামের কেজি প্রতি দাম মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সাধারণ মানুষের চোখে রুপো আর ক্যাডমিয়ামের তফাৎ বোঝা প্রায় অসম্ভব। জালিয়াতির এই বিশাল অঙ্কের হিসেব দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্যানসারের আতঙ্ক

আর্থিক ক্ষতির থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ক্যাডমিয়ামের বিষক্রিয়া। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) অনুযায়ী ক্যাডমিয়াম ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই ধাতু পোড়ালে যে ধোঁয়া নির্গত হয়, তা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী। ভক্তরা অজান্তেই এক মারণ-খেলার শিকার হচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তের মুখে অসাধু চক্র

তিরুপতি বা সিদ্ধিবিনায়কের মতো মন্দিরে এমন অভিযোগ না থাকলেও, বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের আশেপাশের করিডোরের কিছু অসাধু বিক্রেতার দিকেই সন্দেহের আঙুল উঠছে। কাঠুয়া গোল্ডস্মিথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সুদর্শন কুমার কোহলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তল্লাশি ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সতর্কবার্তা: ভক্তদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, মন্দিরে দান করার জন্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী কেনার সময় শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিলারদের থেকে শুদ্ধতা যাচাই করে তবেই কিনুন।

এই বিশাল কেলেঙ্কারির শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করতে এখন মরিয়া প্রশাসন।