রাঘব চাড্ডা-সহ ৭ সাংসদের পদ খারিজের দাবি! দিল্লিতে চরম সংঘাত, উত্তাল রাজ্যসভা

জাতীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভূমিকম্প! আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে রাঘব চাড্ডা ও হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট সাত সাংসদের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে এবার আইনি লড়াই শুরু করল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে এই সাতজনের সাংসদ পদ খারিজের আবেদন জানালেন আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং।

উপ-রাষ্ট্রপতির দরবারে সঞ্জয় সিং

রবিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপ-রাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণাণের কাছে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন সঞ্জয় সিং। তাঁর দাবি, রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তাল-সহ সাত জন সাংসদ আপ-এর টিকিটে জিতে এখন জনাদেশের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সঞ্জয় সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন:

“পঞ্জাবের মানুষ যাঁদের ভোট দিয়ে রাজ্যসভায় পাঠালেন, তাঁরা আজ সংবিধান লঙ্ঘন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই দলত্যাগ অনৈতিক এবং অসাংবিধানিক।”

লাড্ডু বিতরক নিতিন নবীন

গত ২৪ এপ্রিল দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন স্বয়ং রাঘব চাড্ডা ও তাঁর সঙ্গীদের লাড্ডু খাইয়ে বরণ করে নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতেই ‘আপ’ শিবিরে শুরু হয় পাল্টা রণকৌশল। রাঘব চাড্ডার সঙ্গে দল ছেড়েছেন হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল এবং বিক্রম সহানের মতো জনপ্রিয় মুখেরা।

মতভেদ থেকে বিচ্ছেদ: কারণটা কী?

রাঘব চাড্ডার সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। রাজ্যসভায় আপ-এর ডেপুটি লিডার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, রাঘব সংসদে মোদি সরকারের সরাসরি বিরোধিতা না করে ‘সফ্ট পিআর’ (Soft PR) বা নরম ভাষায় কথা বলছেন। আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ তখন বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, “দেশের জ্বলন্ত ইস্যু ছেড়ে আপনি শিঙাড়া নিয়ে কথা বলছেন!”

সাংসদ পদ কি থাকবে?

দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ যদি একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দেন, তবে তাঁদের সদস্যপদ সাধারণত বজায় থাকে। কিন্তু আপ দাবি করছে, এই দলত্যাগ কোনোভাবেই নিয়ম মেনে হয়নি। যদি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আম আদমি পার্টির দাবি মেনে নেন, তবে রাঘব-সহ সাতজনকেই সাংসদ পদ খোয়াতে হতে পারে।

পঞ্জাব এবং দিল্লির রাজনীতিতে এই পটপরিবর্তন ২০২৬-এর আসন্ন নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।