“আজকের মধ্যে হুমকি বন্ধ করুন!” ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর দাপট দেখে রণমূর্তিতে নির্বাচন কমিশন!

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তপ্ত ডায়মন্ড হারবার। ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং বাইক বাহিনীর দৌরাত্ম্য রুখতে এবার বেনজিরভাবে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ করে কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, “আজকের মধ্যে ভোটারদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।” এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একদল যুবক বাইকে চেপে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে এবং বলছে— “ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ, মনে থাকে যেন!”
কমিশনের নির্দেশে পুলিশের এফআইআর ও বদলি এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। পুলিশের আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার ৫ জন প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের নতুন পুলিশি কাঠামো একনজরে:
-
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার: অভিষেক মজুমদার (সন্দীপ গড়াইয়ের পরিবর্তে)।
-
SDPO: বিজয় যাদব (সজল মণ্ডলের পরিবর্তে)।
-
ফলতা থানার IC: পার্থসারথি ঘোষ (অজয় বাগের পরিবর্তে)।
-
ডায়মন্ড হারবার থানার IC: প্রসেনজিৎ কর (মৌসম চক্রবর্তীর পরিবর্তে)।
-
উস্তি থানার OC: রাহুল কুমার (শুভেচ্ছা বাগের পরিবর্তে)।
রাজ্যে ১৬ হাজার বাড়তি ভোটকর্মী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে এবার দক্ষিণবঙ্গের ভোটে উত্তরবঙ্গ থেকে ১৬ হাজার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁরা ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট সামলেছেন, তাঁদেরই এবার দক্ষিণবঙ্গের স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে।
সিইও-র কড়া বার্তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) আরিজ আফতাব এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক মনোজ আগরওয়াল রবিবার কাকদ্বীপে গিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “কোনও রকম অশান্তি বা বাধাদান বরদাস্ত করা হবে না।” সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যেন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশের শীর্ষস্তর বদলে ফেলে কমিশন কি সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে পারবে? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।