“আর কতদিন চটি চাটবেন?” ভবানীপুরের সভা থেকে পুলিশকে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর! তুঙ্গে বিতর্ক!

ভোটের শেষ রবিবারে ভবানীপুরের রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আজ কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের পটুয়াপাড়ায় বিজেপির পথসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যেমন নিশানা করলেন, তেমনই তাঁর আক্রমণের তিরে বিদ্ধ হলেন খোদ পুলিশ আধিকারিকরা।

পুলিশকে নজিরবিহীন কটাক্ষ এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর সবচেয়ে বড় মন্তব্য ছিল পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে। পুলিশের একাংশকে তৃণমূলের দলদাস হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছোড়েন, “আর কতদিন চটি চাটবেন?” এখানেই থামেননি তিনি। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পোশাকের সম্মান রাখতে শিখুন। তৃণমূলের হয়ে দালালি করলে পরিণাম ভালো হবে না। সময় বদলে যাচ্ছে, মনে রাখবেন আপনাদেরও দায়বদ্ধতা থাকবে।”

মমতাকে চ্যালেঞ্জ ও শনিবারের স্মৃতি গতকাল শনিবার চক্রবেড়িয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা বাতিল হওয়া এবং সেখানে বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু আজ দাবি করেন, ভবানীপুর আর তৃণমূলের ‘সেফ প্যাসেজ’ নয়। মমতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “মানুষ ভয় কাটিয়ে বেরিয়ে আসছে। ভবানীপুরের ভূমিপুত্র-কন্যাদের ওপর আপনাদের আর সেই দাপট চলবে না। এবার ভোট হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে।”

সরগরম ভবানীপুর ভোটের মুখে শুভেন্দুর এই ‘চটি চাটা’ মন্তব্য এবং পুলিশকে সরাসরি হুমকি ঘিরে ইতিমদেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই অশালীন ভাষা প্রয়োগ করছেন বিরোধী দলনেতা।

অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভবানীপুর এখন আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের ময়দান।