বিকরু কাণ্ডের সেই ‘খুশি’ এখন টপার! আড়াই বছর জেল খেটে দ্বাদশে বাজিমাত, খুশির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানলে অবাক হবেন!

উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত ‘বিকরু কাণ্ড’ যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। সেই মামলার অন্যতম পরিচিত মুখ খুশি দুবে আবারও সংবাদ শিরোনামে। তবে এবার কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং জীবনের এক কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশ (UP) বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় সসম্মানে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন খুশি।
জেলজীবন থেকে সাফল্যের শিখরে
২০২০ সালের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর আড়াই বছর জেল খাটতে হয়েছিল খুশিকে। আইনি লড়াই, মায়ের অসুস্থতা আর চরম মানসিক চাপের মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়েননি তিনি। শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৬১ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেছেন তিনি। খুশির কথায়, “এই নম্বর আমার কাছে অনেক বড় অর্জন। আমি এখানেই থেমে থাকতে চাই না, আরও পরিশ্রম করতে চাই।”
কেন আইনজীবী হতে চান খুশি?
সাফল্যের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন খুশি। তিনি জানান, স্নাতক শেষ করে তিনি আইন (LLB) নিয়ে পড়তে চান। কিন্তু কেন? খুশি বলেন, “জেলে থাকাকালীন একজন আইনজীবী যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন, তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত। আমি আইনজীবী হয়ে সমাজের সেইসব অসহায় ও অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে চাই, যারা আইনি সহায়তার অভাবে বিচার পায় না।”
ফিরে দেখা: কী ছিল সেই ভয়ংকর বিকরু কাণ্ড?
২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে কানপুরের বিকরু গ্রামে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে ও তার দলবল অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৮ জন পুলিশ কর্মীকে হত্যা করে। এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে খুশির বিয়ে হয়েছিল বিকাশ দুবের ভাগ্নে অমর দুবের সাথে। ঘটনার পর পুলিশের জালে ধরা পড়েন খুশি এবং এনকাউন্টারে মারা যান তার স্বামী অমর দুবে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
ইউপি বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল:
খুশি দুবের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি এই বছর উত্তরপ্রদেশ বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফলও ছিল নজরকাড়া। এ বছর মোট পাসের হার ৮০.৩ শতাংশ। যেখানে মেয়েদের সাফল্যের হার (৮৬.৩২%) ছেলেদের (৭৫.০৪%) তুলনায় অনেকটা বেশি। সীতাপুরের শিখা ভার্মা ৯৭.৬০% নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।
অন্ধকার অতীত ভুলে কলম হাতে খুশির এই নতুন লড়াই এখন নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।