মহাশক্তিধরদের গোপন যুদ্ধ! ২ বছরে চিনের ৮ তুখোড় বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু, নেপথ্যে কি আমেরিকার হাত?

বিশ্বজুড়ে কি শুরু হয়ে গিয়েছে এক ভয়ানক ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’? গত দুই বছরে চিনের প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৮ জন প্রথম সারির বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যুতে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, একই সময়ে আমেরিকাও তাদের ১০ জন পরমাণু বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দুই মহাশক্তিধর দেশের মধ্যে চলা এই ‘বিজ্ঞান-যুদ্ধ’ নিয়ে এখন তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল।
চিনের কোন কোন নক্ষত্র পতন?
নিউজউইক ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিনের ঘাতক ড্রোন ও হাইপারসোনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ৮ জন বিশেষজ্ঞ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় চমকে দেওয়ার মতো:
ঝাং জিয়াওক্সিন (Zhang Xiaoxin): ২০২৪ সালে এক রহস্যময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্পেস মনিটরিং প্রোগ্রামের এই কর্ণধার। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা আজও অজানা।
ফাং ডেইং (Fang Dainig): হাইপারসোনিক প্রকল্পের এই বিশেষজ্ঞ ২০২৪ সালে আফ্রিকা সফরে গিয়ে মারা যান। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
লি মিনয়ং (Li Minyong): মাত্র ৪৯ বছর বয়সী এই বায়োমেডিক্যাল কেমিস্ট্রি বিশেষজ্ঞ ২০২৫ সালে হঠাতই মারা যান।
লিয়ু ডোনঘাও ও ঝাং দাইবিং: চিনের ড্রোন প্রযুক্তির দুই স্তম্ভই যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৩ সালে ‘দুর্ঘটনা’ ও ‘সন্দেহজনক’ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
ইয়ান হং ও ঝোউ গুয়ানগুয়ান: হাইপারসোনিক মিসাইল ও উন্নত রসায়ন প্রকল্পের এই দুই কান্ডারি ২০২৪ ও ২০২৩ সালে তথাকথিত ‘অজ্ঞাত রোগে’ মারা যান।
পিছিয়ে নেই আমেরিকাও
ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩ বছরে আমেরিকার ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আমেরিকায় মৃত এই ১০ জন বিজ্ঞানীই অত্যন্ত গোপন ‘নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট’ বা পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শুরু কি তবে ‘সায়েন্স কোল্ড ওয়ার’?
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হল, এই ১৮ জন বিজ্ঞানীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোনো দেশই এখন পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী প্রমাণ বা স্পষ্ট বিবৃতি পেশ করেনি। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে দুই দেশের মধ্যে চলা এক গোপন স্নায়ুযুদ্ধ। একে অপরের প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই কি এই ‘টার্গেট কিলিং’?
নিজেদের সেরা মগজদের হারিয়ে চিন ও আমেরিকা— উভয় দেশই এখন রক্ষণাত্মক। এই রহস্যমৃত্যুর ধারা কি থামবে, নাকি আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ আরও জটিল করে তুলবে, সেটাই এখন দেখার।