ভোটের বাজারেও হিট ‘মাছ-ভাত’! বাংলার জিডিপিতে এর অবদান কত কোটি জানেন? চমকে দেবে এই তথ্য

তপ্ত রোদে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বাংলা জুড়ে এখন শুধু বিধানসভা নির্বাচনের চর্চা। কিন্তু রাজনীতির বাইরে যখনই বাংলার কথা ওঠে, তখনই অবধারিতভাবে চলে আসে এখানকার সংস্কৃতি এবং জিভ জল আনা ‘মাছ-ভাত’। তবে এটি কি শুধুই আবেগ? পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বাংলার অর্থনীতি বা জিডিপিতে এই মাছ ও মাংসের অবদান শুনলে চোখ কপালে উঠবে যে কারোরই।
জিডিপিতে মাছের ম্যাজিক
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং মৎস্য পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ সালে রাজ্যের জিএসডিপি-তে মৎস্য খাতের অবদান ছিল ৩.৩%। বর্তমানে তা ২.১% হলেও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই হার যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ভারতের মৎস্যচাষিদের মোট সংখ্যার প্রায় ৩.২৫% মানুষই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও বাংলা নিজের দাপট বজায় রেখেছে।
মাংস উৎপাদনে দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ!
খাদ্যরসিক বাঙালির জন্য আরও বড় গর্বের খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেসিক অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫’। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট মাংস উৎপাদনের ১২.৪৬% আসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভর করেই উত্তরপ্রদেশ (১২.২%) এবং মহারাষ্ট্রকে (১১.৫৭%) পিছনে ফেলে এক নম্বর উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা।
মাছ চাষে ‘পোনার ভাণ্ডার’ বাংলা
রাজ্য মৎস্য আধিকারিকদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলার বার্ষিক মৎস্য উৎপাদন ২ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে মাছের পোনা সরবরাহে দেশের মোট উৎপাদনের ১৬%-ই আসে আমাদের রাজ্য থেকে। প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের অন্নসংস্থান হচ্ছে এই খাতের মাধ্যমে। ১৫৮ কিমি দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ২,৫২৬ কিমি দীর্ঘ নদ-নদীর নেটওয়ার্ক বাংলাকে মৎস্য চাষের বৈশ্বিক মানে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
রেকর্ড ভাঙা চাহিদা: মিনিটে ২০০ অর্ডার!
অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ‘সুইগি’-র ২০২৫ সালের উৎসবকালীন রিপোর্ট বলছে, দুর্গোৎসবের সময় কলকাতায় মাংস এবং বিরিয়ানির চাহিদা আকাশছোঁয়া থাকে। গত বছরের তুলনায় অষ্টমীতে অর্ডারের সংখ্যা ১১% বেড়েছে। গত বছর ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে:
প্রতি মিনিটে ৬০টিরও বেশি অর্ডার রেকর্ড করা হয়েছিল।
এক মিনিটে সর্বোচ্চ অর্ডারের সংখ্যা ছিল ১৯৭।
তিন দিনে প্রায় ৯,০০০-এর বেশি মটন ও চিকেন বিরিয়ানির অর্ডার পড়েছে।
অর্থনীতিতে আমিষের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার প্রায় ৯৯% মানুষ আমিষাশী। রাজ্যের পরিবারগুলোর মোট খরচের প্রায় ১৮.৯% ব্যয় হয় মাছ ও মাংসের পেছনে, যা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ৬২,৪০৮ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার বড় অংশীদার বাংলা।
উপসংহার: ভোট আসবে, ভোট যাবে। কিন্তু বাংলার নিজস্ব স্বাদ যে এখানকার অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাছ চাষ, কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে অনলাইন ডেলিভারি এবং ক্লাউড কিচেন—সব মিলিয়ে বাংলার ‘মাছ-ভাত’ এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন।