রাতদুপুরে ইভিএম নিয়ে লুকোচুরি? হলদিবাড়িতে সেক্টর অফিসারের গাড়ি ঘিরে তুলকালাম, প্রথম দফা মিটতেই উত্তেজনা!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের সীমান্ত শহর হলদিবাড়ি। রেকর্ড গড়ে ১৫২টি কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার স্বস্তি উবে গেল গভীর রাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে ইভিএম মেশিন নিয়ে যাচ্ছিলেন এক সেক্টর অফিসার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।

কী ঘটেছিল বৃহস্পতিবার রাতে?
হলদিবাড়ি শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বলডাঙ্গা জুনিয়র বেসিক স্কুলের সামনে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি ঘিরে ধরেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, গাড়ির ভেতরে থাকা ইভিএম মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে। ১৪০ ও ১৪১ নম্বর বুথের ভোটগ্রহণ শেষে কেন নিয়ম না মেনে ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মেখলিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দধীরাম রায় ও অর্ঘ্য রায় প্রধান।

পুলিশ ও আধিকারিকদের সাথে ধস্তাধস্তি
পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিশাল দল বুথ এলাকা ঘিরে ফেলে। দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদের পর বিজেপি নেতাদের আশ্বাস দেওয়া হয় যে, ডিআরসি (DCRC) কেন্দ্রে মেশিনগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। এরপর প্রার্থীর উপস্থিতিতেই গাড়িটি ছাড়া হয়। তবে বিতর্কের শেষ এখানেই হয়নি।

ডিআরসি কেন্দ্রে ধুন্ধুমার: তৃণমূল-পুলিশ হাতাহাতি!
এদিকে, মেখলিগঞ্জের ডিআরসি কেন্দ্রে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের ব্যাপক ঝামেলা শুরু হয়। মেখলিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনির অভিযোগ, পরিচয়পত্র ছাড়া একজন বিজেপি নেতাকে কেন ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হলো? এই নিয়ে প্রশ্ন তুললে পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের হুমকি দেন বলে দাবি তৃণমূলের। পালটা জবাবে বিজেপি প্রার্থী দধীরাম রায় বলেন, “হার নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন মিথ্যে অভিযোগ তুলে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।”

রেকর্ড ভোটেও অস্বস্তি
তৃণমূলের অভিযোগ ও বিজেপির ইভিএম কারচুপির দাবি— দুইয়ের মাঝে পড়ে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জ এলাকা। প্রথম দফার এই রেকর্ড ভোটদানের পর ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।