নয়ডার সেই অভিশপ্ত গর্ত ও যুবরাজের মৃত্যু! ১০০ দিন পর SIT রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য, ৩ পুলিশ আধিকারিক বরখাস্ত!

নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর সেই বিভীষিকাময় ১৬ই জানুয়ারি। জলভর্তি এক গভীর গর্তে পড়ে সলিল সমাধি হয়েছিল সম্ভাবনাময় তরুণ ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। ঘটনার ১০০ দিন পর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর পেশ করা রিপোর্ট যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারা। যুবরাজের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল না; ছিল পুলিশ কন্ট্রোল রুমের চরম উদাসীনতা ও অদক্ষতার এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।

তথ্য ছিল পিসিআর-এর কাছে, তবুও কেন বাঁচানো গেল না?
SIT-এর বিস্তারিত রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর সত্য উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার রাতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম (PCR) সঠিক সময়েই তথ্য পেয়েছিল। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ড্রেনে পড়ে থাকা যুবরাজকে বাঁচানোর জন্য যে তৎপরতা দরকার ছিল, তার বিন্দুমাত্র দেখায়নি পুলিশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, কন্ট্রোল রুমের কর্মীরা এই জরুরি বার্তাকে নিছক একটি রুটিন কাজ হিসেবে গণ্য করে থানায় পাঠিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে: যদি জিপিএস ট্র্যাক করে তাৎক্ষণিক উদ্ধারকারী দল পাঠানো হতো, তবে হয়তো যুবরাজ আজ বেঁচে থাকতেন। এই ‘অপরাধমূলক অবহেলার’ কারণেই প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

শাস্তির মুখে তিন আধিকারিক: বরখাস্তের আদেশ
SIT রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগে অবিলম্বে তিন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন:

অশপাল সিং (অ্যাসিস্ট্যান্ট রেডিও অফিসার – ARO)

দেবেন্দ্র শর্মা (রিজার্ভ সাব-ইন্সপেক্টর – RSI)

এবং আরও একজন কর্মী, যাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।

অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিপদের সময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এই আধিকারিকদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।

গর্তের আসল কারিগর কারা? প্রশ্ন নয়ডা কর্তৃপক্ষের দিকে
পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে অন্য একটি প্রশ্ন। সেক্টর ১৫০-এর মতো একটি অভিজাত ও ‘হাই-টেক’ এলাকায় রাস্তার মাঝে জলভর্তি মরণফাঁদ কেন খোলা ছিল?

কেন গর্তের আশেপাশে কোনো সতর্কীকরণ চিহ্ন বা রিফ্লেক্টর ছিল না?

বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন নয়ডা কর্তৃপক্ষ সেই গর্ত ভরাট করেনি?

এই অবহেলার জন্য দায়ী ঠিকাদার ও প্রশাসনিক কর্তারা কি আদৌ শাস্তির আওতায় আসবেন? না কি নিচুতলার কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানিয়ে দায় সারবে সরকার?

SIT-এর কড়া নির্দেশ: এবার অডিট হবে গর্তের
ভবিষ্যতে এমন ‘মানবসৃষ্ট মৃত্যু’ রুখতে SIT কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে:

নয়ডার সমস্ত নির্মাণাধীন এলাকা ও খোলা বেসমেন্টে অবিলম্বে সেফটি অডিট করতে হবে।

বিপজ্জনক স্থানে নিরাপত্তা জাল এবং সঠিক সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক।

পুলিশ কন্ট্রোল রুমের রেসপন্স টাইম উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।

পরিবারের দাবি: যুবরাজের পরিবারের কাছে এই ১০০ দিন ছিল দীর্ঘ যন্ত্রণার। ৩ পুলিশ কর্মীর বরখাস্ত হওয়াকে তাঁরা কেবল শুরু বলে মনে করছেন। তাঁদের প্রশ্ন— যে ঠিকাদারের গাফিলতিতে গর্তটি তৈরি হয়েছিল, তাঁর বিচার কবে হবে?