লখনউতে মধ্যরাতে ফরচুনারের তাণ্ডব! স্কুটার আরোহীর মৃত্যু, ফুটপাতে ঘুমন্ত শ্রমিকদের পিষে দিল মদ্যপ চালক?

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের কাইজারবাগ এলাকা শনিবার গভীর রাতে এক বীভৎস দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল। বার্লিংটন মোড়ের কাছে একটি নিয়ন্ত্রণহীন সাদা ফরচুনার গাড়ির তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন এক স্কুটার আরোহী এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা দুই অসহায় শ্রমিক। ঘাতক গাড়িটির গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে, তার ধাক্কায় ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আলমবাগের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী সুনীল ওরফে সোনু নিজের অ্যাক্টিভা স্কুটারে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বার্লিংটন মোড়ের কাছে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির সাদা ফরচুনার গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এতটাই জোরালো ছিল যে, সুনীল কয়েক ফুট উঁচুতে ছিটকে পড়েন এবং মাটিতে আছড়ে পড়ামাত্রই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফুটপাতেও থামেনি ধ্বংসলীলা
সুনীলকে পিষে দেওয়ার পরেও ঘাতক গাড়িটি থামেনি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফরচুনারটি সরাসরি উঠে পড়ে রাস্তার ধারের ফুটপাতে। সেখানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দুই শ্রমিক গাড়ির চাকায় পিষ্ট হন। ঘটনার পরেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি কাইজারবাগ থানায় খবর দেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘাতক ফরচুনারটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে:
চালক কি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন?
গাড়ি চালানোর সময় তিনি কি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন?
নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রমিকরা
নিহত সুনীলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফুটপাতে ঘুমন্ত যে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন, তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের বেডে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা।
বারবার কেন এই রক্তপাত?
বার্লিংটন মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় রাতের বেলা গতির এই মরণখেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতেই এক শ্রেণির চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। যার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হলো যে, ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা সহায়-সম্বলহীন মানুষগুলোও আজ কতটা অসুরক্ষিত।