ভিসা পেতে গুনতে হবে ৯ কোটি টাকা! ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’ নিয়ে কেন রহস্য দানা বাঁধছে ওয়াশিংটনে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা কি তবে মুখ থুবড়ে পড়ছে? গত চার মাস ধরে ঘটা করে প্রচার চালানো হলেও, পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের দেওয়া এক তথ্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কয়েক হাজার মানুষ লাইনে থাকলেও, গত চার মাসে ভিসা অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ১ জন!
কী এই ‘গোল্ড কার্ড’ পরিকল্পনা?
গত বছর এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি সামনে আনেন ট্রাম্প। নিয়ম অনুযায়ী:
বিনিয়োগ: ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯.৪ কোটি টাকা) খরচ করে যে কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে আইনত থাকা ও কাজ করার সুযোগ পাবেন।
ফি: আবেদনের জন্য আলাদাভাবে ১৫,০০০ ডলার ফি দিতে হবে।
সুবিধা: এটি সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করে দেবে। এমনকি কোম্পানিগুলো চাইলে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য এই সুবিধা নিতে পারবে।
দাবি বনাম বাস্তব: গরমিল কোথায়?
প্রকল্পটি চালুর সময় লুটনিক দাবি করেছিলেন, কয়েক দিনেই ১.৩ বিলিয়ন ডলারের গোল্ড কার্ড বিক্রি হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন। অনুমোদনের এই ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লুটনিক জানান, সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি আবেদন যাচাই করছে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা পড়ার দাবির বিপরীতে কেন মাত্র একজন ছাড়পত্র পেলেন, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
আসছে ৫ মিলিয়ন ডলারের ‘প্ল্যাটিনাম কার্ড’!
গোল্ড কার্ডের পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন আনতে চলেছে ‘প্ল্যাটিনাম কার্ড’। এর দাম ধরা হয়েছে ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৭ কোটি টাকা)। এই কার্ডের বিশেষত্ব হলো:
বছরে ২৭০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যাবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা—বিদেশে করা আয়ের ওপর কোনো কর (Tax) দিতে হবে না।
সরকারের লক্ষ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করে আমেরিকার ৩১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল ঋণের বোঝা কমানো।
আমেরিকা কি মোহ হারাচ্ছে?
গ্যালাপের সাম্প্রতিক সমীক্ষা কিন্তু ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সমীক্ষা বলছে, ২০০৯ সালে যেখানে ২৪% মানুষের প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫%-এ। অর্থাৎ, স্থায়ী বসবাসের জন্য আমেরিকার প্রতি বিশ্বের মানুষের আকর্ষণ এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।