“২৪০-ও হয়ে যেতে পারে!” ভোটের সুনামি দেখে বড় প্রেডিকশন কেষ্টর, ঘুম উড়ল বিরোধীদের?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটের হার ৯০ শতাংশের গণ্ডি পার করতেই নয়া সমীকরণ পেশ করলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। ইভিএমে উপচে পড়া ভিড় দেখে নিজের পুরনো হিসাব বদলে দিলেন ‘কেষ্ট’। আগে ২৩০-২৩৫টি আসনের কথা বললেও, রেকর্ড ভোটিং দেখে এবার তাঁর দাবি—তৃণমূল এবার ২৪০টি আসনের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

হিসেব বদলালেন অনুব্রত:
বীরভূমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল জানান, এমন ভোট তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আগে কখনও দেখেননি। ২০১১ সালে পরিবর্তনের ভোটে হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ, কিন্তু এবার তা ৯০ শতাংশ পেরিয়ে যাওয়ায় রীতিমতো উচ্ছ্বসিত তিনি। অনুব্রতর কথায়, “আগে বলেছিলাম ২৩০-২৩৫ পাব। কিন্তু যে হারে মানুষ বুথমুখী হয়েছেন, তাতে দেখে মনে হচ্ছে সংখ্যাটা ২৪০-ও হয়ে যেতে পারে।”

বিস্ফোরক অনুব্রত: এসআইআর ও মোদী প্রসঙ্গ
এদিন ফের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ:

বয়স্ক মানুষদের অকারণে রোদে লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে।

এই হয়রানির জেরে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার ফল ব্যালট বক্সে তৃণমূলের পক্ষেই যাবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘৫০ বছরের রেকর্ড ভাঙা’ মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ অনুব্রত। তাঁর সাফ কথা, মানুষ নিজের অধিকার প্রয়োগ করেছে তৃণমূলকে জেতানোর জন্যই।

নজরে নলহাটি ও মুরারই:
বীরভূম জেলার ভোট নিয়ে বিশেষ আত্মবিশ্বাসী অনুব্রত। তাঁর মতে, নলহাটি এবং মুরারই—এই দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই দুই কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৯১.৯১% এবং ৯১.৬৬%।

প্রথম দফার ১৫২ আসনে এই রেকর্ড ভোটিং কি সত্যিই ঘাসফুল শিবিরের পথ প্রশস্ত করবে? না কি অনুব্রতর এই আত্মবিশ্বাসে জল ঢালবে ইভিএম-এর গোপন রায়? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।