কার দখলে ১৫২ আসন? শুভেন্দুর দাবি ১২৫, কুণাল বলছেন ১৩৫! প্রথম দফার ভোট শেষে শুরু ‘নম্বর গেম’

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল রাজনৈতিক চর্চা। ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। স্বাধীনতার পর বাংলায় এমন ‘ভোটের সুনামি’ আর দেখা যায়নি। এই বিপুল জনমত পরিবর্তনের ইঙ্গিত না কি প্রত্যাবর্তনের, তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে সংখ্যার লড়াই।
নেতাদের মুখে কার কত আসন?
ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই জয়ের আগাম খতিয়ান তুলে ধরছেন দুই শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা:
নরেন্দ্র মোদি: প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “অনেক জেলায় তৃণমূলের খাতা খুলবে না। মানুষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।”
শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ, “১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ন্যূনতম ১২৫টি আসন পাবে। ৪ তারিখ মিলিয়ে নেবেন।”
কুণাল ঘোষ: পাল্ট দাবি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের। তাঁর মতে, “১৩২ থেকে ১৩৫টি আসনে তৃণমূল জিতছে। নন্দীগ্রামেও হারবে বিজেপি।”
অনুব্রত মণ্ডল: বীরভূমের দাপুটে নেতার হুঙ্কার, “আমরা ২৩০ পাব। বিজেপি ৬০-এর বেশি এগোবে না।”
মমতার ‘ইভিএম’ তোপ:
বিজেপি নেতাদের আত্মবিশ্বাসী দাবি শুনে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তার মানে কি আপনি ইভিএম-এ সব ফিট করে রেখেছেন? চার তারিখে বাক্স খুললে দেখবেন বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে।”
একনজরে ঐতিহাসিক ভোটদানের পরিসংখ্যান:
এবারের ভোটে ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৯৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। জেলার হিসেবে পরিস্থিতি ঠিক এমন:
শীর্ষে: কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুর (৯৫ শতাংশের বেশি)।
দ্বিতীয় স্থানে: বীরভূম ও জলপাইগুড়ি (৯৪ শতাংশের বেশি)।
অন্যান্য: মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে ৯৩% এবং জঙ্গলমহল এলাকায় প্রায় ৯২% ভোট পড়েছে।
গণদেবতার রায় কোন দিকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেকর্ড ভোটদান সাধারণত ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা শাসক বিরোধী হাওয়ার লক্ষণ। তবে তৃণমূলের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও উন্নয়নের জোয়ারে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। গণতন্ত্রে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। ৪ মে বক্স খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার মাথায় উঠবে বাংলার মুকুট।