“অলরেডি জিতে গিয়েছি”, মোদিকে ‘মহামূর্খ’ বলে তোপ মমতার!

১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণ। নজিরবিহীন নিরাপত্তা আর রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের পর এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলার মসনদ কার দিকে ঝুঁকছে? যখন বিজেপি ও তৃণমূল দুই পক্ষই জয়ের দাবিতে অনড়, ঠিক তখনই চৌরঙ্গীর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার বিস্ফোরক দাবি:
ভোটের হার দেখে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে ধরা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আজকে যা ভোট হয়েছে, তাতে অলরেডি আমরা জেতার জায়গায় এসে গেছি। তুমি (মোদি) ক্যাঁচকলা করবে!” প্রধানমন্ত্রীর জয়ের দাবীকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণকে কেন অবিশ্বাস করেন? আপনারা এক মহামূর্খ হন কী করে? তার মানে কি ইভিএমে কিছু ফিট করে রেখেছেন?”
বিজেপি বনাম তৃণমূল: সংখ্যার লড়াই
ভোট শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে আসন সংখ্যার দড়ি টানাটানি:
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ন্যূনতম ১২৫টি আসন দখল করবে।
কুণাল ঘোষের পাল্টা: তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৩২ থেকে ১৩৫টি আসনেই জিতছে ঘাসফুল শিবির।
অশান্তি ও কড়া নজরদারি:
মোটে ওপর ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু জায়গায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে তাড়া করে মারধরের অভিযোগ ওঠে। আসানসোলে অগ্নিমিত্রা পালের কনভয়ে হামলা ও মুর্শিদাবাদের নওদায় হুমায়ুন কবীরের মেজাজ হারানো—এসবই ছিল প্রথম দফার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় বড় কোনও অঘটন ঘটেনি।
গণদেবতার রায় কবে?
নেতা-নেত্রীরা একে অপরকে ‘রাজনৈতিক দুরমুশ’ করার ডাক দিলেও, আসল চাবিকাঠি এখন ইভিএম-এ বন্দি। ৪৪ হাজার বুথের রেকর্ড সংখ্যক ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে না কি প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সায় দিয়েছেন, তা পরিষ্কার হবে আগামী ৪ মে।