বর্ষায় কি ব্যাহত হবে উত্তর-পূর্বের ট্রেন চলাচল? সুরক্ষার হাল খতিয়ে দেখতে হঠাৎ পরিদর্শনে জিএম!

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি পথে ট্রেন চলাচল সচল ও সুরক্ষিত রাখতে কোমর বেঁধে নামল রেল কর্তৃপক্ষ। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (NFR) জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব সম্প্রতি লামডিং ডিভিশনের অন্তর্গত ভৈরবী-বদরপুর এবং বদরপুর-পাথরখোলা সেকশন পরিদর্শন করেন। মূলত চলমান ‘সুরক্ষা অভিযান’ এবং বর্ষাকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

উইন্ডো ট্রেইলিং ও খুঁটিনাটি পরিদর্শন:
পরিদর্শনের সময় জেনারেল ম্যানেজার একটি বিস্তারিত ‘উইন্ডো ট্রেইলিং’ (Window Trailing) সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে রেললাইনের কাঠামোগত অখণ্ডতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি যাচাই করা হয়। বর্ষায় ধস, জলমগ্ন হওয়া বা রেললাইনের অস্থিতিশীলতার মতো সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তা মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও প্রশিক্ষণ:
সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বদরপুরের নবনির্মিত সাব ডিভিশনাল ট্রেইনিং সেন্টার এবং আল্ট্রাসনিক ফ্লো ডিটেকশন (USFD) গবেষণাগার পরিদর্শন। রেললাইনের সূক্ষ্মতম ত্রুটি শনাক্ত করতে এই ল্যাবরেটরি বড় ভূমিকা পালন করবে। জিএম আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রক্ষণাবেক্ষণ ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

মিজোরামের অর্থনৈতিক সংহতি:
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিজোরামের ভৈরবী-সাইরাং রেল প্রকল্পটির প্রেক্ষাপটে এই পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালে এই সংযোগটি চালু হওয়ার পর থেকে মিজোরামের পর্যটন ও অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

সফরের শেষে তিনি বদরপুর রেল স্টেশনের চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলোও খতিয়ে দেখেন এবং যাত্রীদের পরিষেবা ও নিরাপত্তা আরও উন্নত করার ওপর জোর দেন।