ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ‘মাস্টারস্ট্রোক’! কী এই DPI যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে হাত মেলাল আরও ২৩টি দেশ?

মাসখানেক আগেই ভারত আরও ২৩টি দেশের সঙ্গে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা DPI নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। কিন্তু এই DPI বা ‘ইন্ডিয়া স্ট্যাক’ (India Stack) আসলে কী? কেন এটি সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে? আসুন জেনে নিই।
কী এই ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI)?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, DPI হলো একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। এটি এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং বিভিন্ন নথিপত্র বা ডেটা আদান-প্রদান একই ছাতার নিচে কাজ করে। ভারতের আধার (Aadhaar), ইউপিআই (UPI) কিংবা উমং (UMANG) অ্যাপের মতো পরিষেবাগুলো এই শক্তিশালী পরিকাঠামোর ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কেন এটি জরুরি?
পরিষেবার সহজলভ্যতা: এর ফলে সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। আলাদা আলাদা দপ্তরে আলাদা সিস্টেমের ওপর আর নির্ভর করতে হচ্ছে না।
দুর্নীতি মুক্তি: আগে সরকারি ভর্তুকি বা সুবিধা পেতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হতো। এখন কোনো মিডলম্যান বা দালালের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে।
স্বচ্ছ অর্থনীতি: ইউপিআই-এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ায় নগদের ওপর নির্ভরতা কমেছে। ফলে অর্থনীতি অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়েছে এবং কালো টাকার কারবারে রাশ টানা গিয়েছে।
কাগজহীন পরিষেবা: ডিজিটাল নথিপত্রের ফলে কাগজের ব্যবহার অনেক কমেছে, যা পরিবেশের জন্যও ভালো এবং কাজকেও অনেক সহজ করে দিয়েছে।
গ্রাম ভারতের ক্ষমতায়ন
ভারতের এই ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সবথেকে বড় সুবিধা পাচ্ছেন গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও এখন ব্যাঙ্কিং বা সরকারি পরিষেবার আওতায় আসতে পারছেন। এর ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
ভারতের এই সাফল্য আজ আর শুধু দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ‘ইন্ডিয়া স্ট্যাক’-এর এই অভাবনীয় মডেল দেখে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের একাধিক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ এখন ভারতের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। বিশ্বের কাছে ভারত এখন ডিজিটাল বিপ্লবের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।