সেদিন ১৩০ পার করত গেরুয়া বাহিনী! ৫ বছর পর নির্বাচনের গোপন ‘নথি’ ফাঁসের দাবি, সুকান্ত-শুভেন্দুর নিশানায় কারা?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে যেন পরমাণু বোমা ফাটাল বিজেপি নেতৃত্ব। ৫ বছর আগের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর দাবি। বিজেপির অভিযোগ, সেদিন হারের কারণ জনসমর্থনের অভাব ছিল না, বরং গণনার দিনে এক পরিকল্পিত ‘কারচুপি’র শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের। গেরুয়া শিবিরের দাবি, সেদিন প্রকৃত হিসেবে বিজেপি অনায়াসেই ১৩০টি আসন পার করে যেত!
কী সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য? বুধবার বিকেলে বিজেপি নেতৃত্বের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ২০২১-এর ভোটের ফল ঘোষণার দিন একাধিক হাই-ভোল্টেজ আসনে গণনায় গোলমাল করা হয়েছিল। দলের এক শীর্ষ নেতার দাবি, “আমাদের কাছে এমন তথ্য ও নথি রয়েছে যা প্রমাণ করে যে অন্তত ৫০-৬০টি আসনে জয়ের মার্জিন অত্যন্ত কম থাকা সত্ত্বেও কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি প্রার্থীদের হারানো হয়েছে। যদি সেই গণনা স্বচ্ছ হতো, তবে বাংলার ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো।”
বিজেপির নিশানায় কারা? বিজেপির অভিযোগের তির মূলত দুই দিকে: ১. প্রশাসনের একাংশ: শাসকদলের ঘনিষ্ঠ কিছু সরকারি আধিকারিক গণনার সময় পক্ষপাতিত্ব করেছেন। ২. গণনা কেন্দ্রের অব্যবস্থা: পোস্টাল ব্যালট এবং শেষ কয়েক রাউন্ডের গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির।
কেন ৫ বছর পর এই দাবি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর ভোটের ঠিক আগের দিন এই তথ্য সামনে আনা অত্যন্ত সুচিন্তিত কৌশল।
-
কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা: দলের নিচুতলার কর্মীদের বোঝানো যে বিজেপি জেতার ক্ষমতা রাখে, কেবল ভোট লুট রুখতে হবে।
-
কমিশনকে সতর্ক করা: এবার যাতে গণনায় কোনো ত্রুটি না থাকে, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর আগাম চাপ সৃষ্টি করা।
-
ভোটারদের বার্তা: যারা পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মনে ফের শাসকদলের প্রতি অনাস্থা তৈরি করা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: বিজেপির এই দাবিকে হারের আগাম অজুহাত হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের মুখপাত্রদের দাবি, “২০২১-এ মানুষ আছাড় মেরেছিল, ২০২৬-এ তার পুনরাবৃত্তি হবে বুঝেই এখন পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছে বিজেপি। ১৩০ তো দূর, এবার ওরা ৭০ পার করতে পারবে কি না সন্দেহ!”
উপসংহার: ২০২১-এর ভূত কি তবে ২০২৬-এর ভোটেও তাড়া করবে? এই বিস্ফোরক দাবির সত্যতা যাই হোক না কেন, ভোটের আগের রাতে এই ‘১৩৫ আসনের ফর্মুলা’ যে সরগরম করে তুলেছে পাড়ার মোড় থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।