“বাইক আরোহীদের কড়া পাহারায় নির্বাচন কমিশন! নিয়ম ভাঙলে আইনি বিপাক? আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় বাংলা”

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরুর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক আরোহীদের ওপর কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এই নির্দেশিকাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং ডেলিভারি কর্মীদের জীবিকা সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আজ কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই মামলার জরুরি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে: ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে নির্বাচন কমিশন যে নিয়মগুলো এনেছে:
-
রাতের নিষেধাজ্ঞা: ভোটের দু’দিন আগে থেকে রাত ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (জরুরি অবস্থা ছাড়া)।
-
পিলিয়ন রাইডিং-এ বাধা: দিনের বেলা (সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা) বাইক চালানো গেলেও পিলিয়ন বা পেছনে আরোহী বসানো যাবে না। তবে স্কুল পড়ুয়া, রোগী বা পারিবারিক প্রয়োজনে ছাড় মিলবে।
-
বাইক র্যালি নিষিদ্ধ: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো ধরণের বাইক মিছিল বা র্যালি করা যাবে না।
মামলার মূল কারণ: আবেদনকারীদের দাবি, কমিশনের এই নির্দেশিকায় সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ ও গিগ-ওয়ার্কাররা (যেমন— Rapido, Uber Moto, বা খাবার ডেলিভারি বয়) চরম সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে: ১. জীবিকা সংকট: ডেলিভারি ও বাইক-ট্যাক্সি চালকদের আয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ২. জরুরি অনুমতি: স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ৩. বিভ্রান্তি: পারিবারিক প্রয়োজনে ছাড়ের কথা বলা হলেও, রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আদালতের নজরে কী আছে? হাইকোর্টে দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাফেরার মৌলিক অধিকার যাতে খর্ব না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হোক। এখন দেখার, বৃহস্পতিবার আদালত এই নির্দেশিকায় কোনো শিথিলতা আনে কি না।
এক নজরে: কমিশনের লক্ষ্য বাইক বাহিনীর তাণ্ডব রোখা, কিন্তু আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে সাধারণ বাইক আরোহীদের স্বস্তি।