জার্মানির গুরুদ্বারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! চলল গুলি, কৃপাণ-ছুরির লড়াইয়ে জখম অন্তত ১১

বিদেশের মাটিতে ধর্মীয় উপাসনা কেন্দ্রে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। জার্মানির মোয়ের্স (Moers) শহরের একটি গুরুদ্বারে দুই শিখ গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ ঘটা এই ঘটনায় অন্তত ১১ জন জখম হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করতে হয়।
কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রবিবার প্রার্থনা চলাকালীন আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গুরুদ্বার চত্বর। প্রায় ৪০ জন এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়— কৃপাণ, ছুরি এবং লাঠি নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে দুই পক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন আততায়ী প্রথমে ‘পেপার স্প্রে’ ছিটিয়ে দেয়, এরপর চলে কয়েক রাউন্ড গুলি। প্রাণভয়ে অনেকে খালি পায়েই গুরুদ্বার থেকে রাস্তার দিকে দৌড়াতে শুরু করেন।
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
জার্মান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলা মোটেও আকস্মিক ছিল না। গুরুদ্বার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন এবং তহবিলের টাকা নিয়ে পুরনো ও বর্তমান সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
-
প্রধান কারণ: পরিচালনা পর্ষদের নতুন অধিকর্তা নির্বাচন।
-
তহবিলের টানাপোড়েন: গুরুদ্বারের টাকা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে রেষারেষি।
-
অস্ত্রের ব্যবহার: পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এটি কোনো ‘ব্ল্যাঙ্ক ফায়ারিং’ পিস্তল হতে পারে।
পুলিশি পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়েই ডুসেলডর্ফ থেকে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (SEK) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডগ স্কোয়াড এবং হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে একজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোয়ের্স পুলিশ এবং পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।