“বিচার চাইতে না পারলে পার্লামেন্ট ছাড়ুন!” ৭৮ জন নারী সাংসদকে বেনজির তোপ নানা পটেকরের

সিনেমার পর্দায় তাঁর সংলাপ শুনে দর্শকদের রক্ত গরম হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবের মাটিতেও যে নানা পটেকর (Nana Patekar) ততটাই ধারালো এবং স্পষ্টবাদী, তার প্রমাণ মিলল আবারও। এবার কোনো অভিনেতা বা পরিচালকের বিরুদ্ধে নয়, নানা সরাসরি আক্রমণ শানালেন ভারতের আইনসভা তথা পার্লামেন্টের নারী সাংসদদের বিরুদ্ধে। নারী নির্যাতনের বিচার ইস্যুতে তাঁদের ‘নীরবতা’ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন এই প্রবীণ অভিনেতা।

৭৮ জন নারী সাংসদ থাকলেও কেন বিচার নেই?

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নানা পটেকর দাবি করেন, দেশের সংসদে বর্তমানে ৭৮ জন নারী সাংসদ রয়েছেন। কিন্তু নারী নিগ্রহ বা ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনার সময় তাঁদের জোরালো প্রতিবাদ কেন শোনা যায় না? নানা পটেকরের সাফ কথা— “পার্লামেন্টে ৭৮ জন নারী সাংসদ রয়েছেন। তাঁরা যদি একজন ধর্ষণ নিগৃহীতার হয়ে সংসদে গলা চড়াতে না পারেন, তবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার কোনও অর্থ-ই নেই!”

দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

অভিনেতা মনে করেন, মহিলারা যখন জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদে যান, তখন তাঁদের প্রাথমিক দায়িত্ব হওয়া উচিত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে যদি সাংসদরা দলীয় স্বার্থে বা অন্য কোনও কারণে নীরব থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা পায়। তাঁর এই কড়া মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতার অভাবকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল

নানার এই ‘র’ এবং ‘আনকাট’ মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নেটপাড়ায়। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, “নানা একদম ঠিক কথা বলেছেন, ক্ষমতার লোভে অনেকেই এখন প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছেন।” আবার অন্য অংশের দাবি, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বা সংসদীয় নিয়মের প্যাঁচে পড়ে অনেক সময় চাইলেও নারী সাংসদরা মন খুলে কথা বলতে পারেন না।

তর্কাতর্কি শুরু রাজনৈতিক মহলে

নানা পটেকরের এই তোপের মুখে এখনও কোনও নারী সাংসদ সরাসরি মুখ না খুললেও, রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। অভিনেতা কি তবে পরোক্ষভাবে কোনও বিশেষ দল বা ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করলেন? উত্তর না মিললেও, নানার এই সাহসী মন্তব্য সমাজের এক গভীর ক্ষতের ওপর যে নুন ছিটিয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

সাংসদরা কি এবার তাঁদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আরও সংবেদনশীল হবেন? নাকি নানার এই গর্জন কেবল সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।