লখনউয়ের রাজপথে যোগীর ‘রণহুঙ্কার’! নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে বিরোধীদের তুলোধোনা করতে পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী

নারী সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। মঙ্গলবার লখনউয়ের রাজপথে কার্যত শক্তি প্রদর্শন করল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বিধানসভা পর্যন্ত এক বিশাল ‘নারী শক্তি’ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (SP), তৃণমূল (TMC) এবং ডিএমকে-র মতো বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে একযোগে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

লখনউয়ের রাজপথে যোগীর বিশাল পদযাত্রা
এদিন মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, মন্ত্রী বেবি রানী মৌর্য এবং বিজেপি জোটের অন্যতম শরিক ওম প্রকাশ রাজভর ও আশীষ প্যাটেল। ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে এদিন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে লখনউয়ের আকাশ।

“কংগ্রেস ও সপা-র চেহারা নারীবিদ্বেষী”: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
মিছিল শেষে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:

জনগণ দেখছে: এই গণ-ক্ষোভ মিছিলটি আসলে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নারী-বিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমায়েত।

সুযোগের অপব্যবহার: প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের নিজেদের নারীবিদ্বেষী ভাবমূর্তি মোছার সুযোগ দিলেও তারা তার অপব্যবহার করেছে।

অগণতান্ত্রিক জোট: ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো অগণতান্ত্রিক এবং তারা সবসময় নারীদের ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করে এসেছে।

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার নারীর উপস্থিতি
এদিন লখনউয়ের তাপমাত্রা ছিল প্রচণ্ড। তা সত্ত্বেও মিছিলে কয়েক হাজার নারীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে লেখা ক্ষুরধার স্লোগান সম্বলিত পোস্টার। ভিড় সামলাতে শহরের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল ঘুরিয়ে দিয়েছিল প্রশাসন।

সতর্ক প্রশাসন ও মেডিকেল ক্যাম্প
বড় ধরনের জমায়েত এবং গরমের কথা মাথায় রেখে লখনউ পুলিশ উচ্চ সতর্কতা জারি করেছিল। পদযাত্রার পথ জুড়ে জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছিল মেডিকেল ক্যাম্প এবং মজুত রাখা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স, যাতে কোনো অংশগ্রহণকারী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: “আজকের এই মিছিল কংগ্রেস, সপা, টিএমসি-র নারী-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দেশের ‘অর্ধেক জনগোষ্ঠী’র (নারীদের) পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতীক।”