‘ফ্রি’ মিউজিক ব্যবহার করছেন? ইউটিউবে গান ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম—ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংখ্যা এখন আকাশছোঁয়া। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দৌলতে ভিডিও বানানো সহজ হলেও, অনেকেই হোঁচট খাচ্ছেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে। ইন্টারনেটে ‘ফ্রি’ লেখা দেখলেই গান ডাউনলোড করে ভিডিওতে বসিয়ে দেওয়াটা হতে পারে আপনার বড় ভুল। একটু অসতর্ক হলেই চ্যানেলে আসতে পারে কপিরাইট স্ট্রাইক (Copyright Strike), যা আপনার বছরের পরিশ্রম নিমেষে মুছে দিতে পারে।
কপিরাইট ক্লেম বনাম স্ট্রাইক: তফাতটা বুঝুন
অনেকেই এই দুটোর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
-
কপিরাইট ক্লেম: এটি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। এর মানে হলো ওই ভিডিও থেকে যা আয় হবে, তা চলে যাবে গানের আসল মালিকের কাছে। আপনার চ্যানেলের ক্ষতি হবে না।
-
কপিরাইট স্ট্রাইক: এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ৩ মাসের মধ্যে ৩টি স্ট্রাইক খেলে আপনার চ্যানেলটি চিরতরে বন্ধ করে দেবে ইউটিউব।
বিপদ এড়াতে ‘সেফ’ থাকার ৪টি গোল্ডেন টিপস
১. ইউটিউব অডিও লাইব্রেরি (YouTube Audio Library): সবচেয়ে নিরাপদ সোর্স হলো এটি। ইউটিউব স্টুডিওর ভেতরেই হাজার হাজার কপিরাইট-মুক্ত মিউজিক থাকে। এখান থেকে মিউজিক নিলে স্ট্রাইকের ভয় ৯৯% কমে যায়। ২. অ্যাট্রিবিউশন বা ক্রেডিট দেওয়া: অনেক ‘ফ্রি’ মিউজিকের শর্ত থাকে যে, ভিডিওর ডেসক্রিপশনে মিউজিক কম্পোজারের নাম ও লিঙ্ক দিতে হবে। একে বলা হয়
Creative Commons (CC) লাইসেন্স। এটি না দিলে মিউজিকটি ফ্রি হলেও আপনি স্ট্রাইক খেতে পারেন।
৩. পেইড সাবস্ক্রিপশন: পেশাদার কাজের জন্য এপিডেমিক সাউন্ড (Epidemic Sound) বা আর্টলিস্ট (Artlist)-এর মতো সাইট ব্যবহার করা ভালো। তবে মনে রাখবেন, সাবস্ক্রিপশন শেষ হয়ে গেলে পুরনো লাইসেন্স কাজ করবে কি না, তা শর্তাবলী পড়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৪. রিলসের ক্ষেত্রে নিজস্ব লাইব্রেরি: ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক রিলস বানানোর সময় থার্ড পার্টি অ্যাপ থেকে গান না নিয়ে প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব মিউজিক লাইব্রেরি ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
‘নো কপিরাইট’ চ্যানেলের ফাঁদ!
ইউটিউবে এমন অনেক চ্যানেল আছে যারা ‘No Copyright Music’ লিখে গান আপলোড করে। অনেক সময় দেখা যায়, সেই গান জনপ্রিয় হওয়ার পর তারা মালিকানা দাবি করে চড়াও হয় এবং আগের ভিডিওগুলোতে ক্লেম বা স্ট্রাইক পাঠায়। তাই অজানা সোর্স থেকে গান না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
স্ট্রাইক এলে কী করবেন?
যদি ভুলবশত স্ট্রাইক এসেও যায়, তবে সরাসরি ‘কাউন্টার নোটিফিকেশন’ বা আপিল করা যায়। যদি আপনার কাছে বৈধ লাইসেন্স থাকে, তবে সেই প্রমাণ জমা দিলে ইউটিউব স্ট্রাইক তুলে নেয়। এছাড়া অনেক সময় মিউজিক ওনারের সাথে কথা বলে ‘সেটেলমেন্ট’-এর মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আপনার চ্যানেল আপনার স্বপ্ন, তাই ভুল মিউজিকে সেই স্বপ্নকে নষ্ট হতে দেবেন না।