১৮ হাজার থেকে সরাসরি ৬৯ হাজার! অষ্টম বেতন কমিশনে কি কপাল খুলছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের?

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর বাজারের চড়া দামের মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় এক খুশির খবর আসতে চলেছে। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, এবার কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতনে এমন এক লাফ দেখা যেতে পারে, যা আগে কখনও হয়নি। বর্তমানের ১৮,০০০ টাকা মূল বেতন বেড়ে সরাসরি ৬৯,০০০ টাকা করার এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

১৮ থেকে ৬৯ হাজার: কী এই জাদুকরী গাণিতিক ফর্মুলা?
বেতন বৃদ্ধির এই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (Fitment Factor)-এর ওপর। কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM) সরকারের কাছে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। সহজ কথায়, বর্তমান মূল বেতনের প্রায় ৩.৮৩ গুণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এই হিসেব কার্যকর হলে এক ধাক্কায় বেতন বাড়বে প্রায় ৫১,০০০ টাকা!

হঠাৎ কেন এই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধির দাবি?
এই দাবির পেছনে রয়েছে আইসিএমআর (ICMR)-এর এক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড। ইউনিয়নগুলোর যুক্তি হলো:

পরিবারের আকার: আগে ৩ জনের পরিবার ধরে হিসেব হতো, এখন ৫ জনের পরিবারকে মানদণ্ড করা হয়েছে।

ক্যালোরি চার্ট: নতুন খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী মাথাপিছু ৩,৪৯০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই এই বেতন কাঠামো তৈরি।

বাজার দর: দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুর মতো মেগাসিটির সরকারি বিপণি থেকে নিত্যপণ্যের গড় দাম সংগ্রহ করে এই ‘কস্ট অফ লিভিং’ হিসেব করা হয়েছে।

সরকার কি এই দাবি মেনে নেবে?
ইতিহাস বলছে, সরকার এবং কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলতেই থাকে। সপ্তম বেতন কমিশনের সময় কর্মীরা ৩.৭১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানালেও সরকার তা ২.৫৭-এ নামিয়ে এনেছিল। ফলে এবারও অর্থ মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ বৃদ্ধি অনুমোদন করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে সরকার এবার কিছুটা নমনীয় হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

কবে ঢুকবে বর্ধিত টাকা?
যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে:

মে ২০২৭: অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার সম্ভাবনা।

২০২৭-এর দ্বিতীয়ার্ধ: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত বেতন জমা শুরু হতে পারে।