২০ বছরের যুদ্ধবিরতি! পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে বসছে ইরান-আমেরিকা, ট্রাম্প কি পারবেন ওবামাকে ছাপিয়ে যেতে?

বিশ্ব রাজনীতির মোড় কি এবার ঘুরতে চলেছে? দীর্ঘদিনের চিরশত্রু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পাকিস্তানের মাটিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বৈঠকেই দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এই নতুন প্রস্তাবে ওয়াশিংটনের চেয়ে তেহরানই বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ওবামা প্রশাসনের চেয়েও ঢের ভালো চুক্তি নিশ্চিত করবেন তিনি।

শান্তি চুক্তির ৪টি বিস্ফোরক শর্ত: কী আছে খসড়ায়?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সহায়তায় তৈরি এই খসড়ায় ২০ বছরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চুক্তির প্রধান দিকগুলো হলো:

১. ২০ বছরের ‘নো ওয়ার’ জোন: আগামী ২০ বছর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকবে। বিনিময়ে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালাবে না।
২. আটকে থাকা ২০০ বিলিয়ন ডলার: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল অবমুক্ত করবে। ইরান দাবি জানিয়েছে, চুক্তি সই হওয়া মাত্রই অন্তত ২৭ বিলিয়ন ডলার ত্রাণকাজের জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
৩. ইউরেনিয়াম ব্যবহারের অনুমতি: আগে ইরানকে কোনো ইউরেনিয়াম রাখতে দিতে নারাজ ছিল আমেরিকা। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ইরান সীমিত ইউরেনিয়াম ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
৪. অমীমাংসিত হরমুজ ইস্যু: হরমুজ প্রণালীতে স্থায়ী টোল বুথ নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম কোথায় ধ্বংস করা হবে (ইরান না কি আমেরিকায়)—এই দুটি বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

ট্রাম্প বনাম গালিবফ: কার লক্ষ্য কী?
ইরানের শান্তি আলোচনার প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা একে বিজয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ইরান কোনো চাপে নেই। তাঁর কথায়, “আমরা ইরানের সর্বোত্তম স্বার্থ বজায় রেখেই আলোচনা করব।”

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত একটি কূটনৈতিক ‘বিজয়’ হাতে পেতে মরিয়া। কিন্তু ইরান হাঁটছে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলে।

লিবিয়ার শিক্ষা ভুলছে না তেহরান
ইরানের পিছু হটার অনীহার পেছনে রয়েছে লিবিয়ার করুণ ইতিহাস। ২০০৩ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি আমেরিকার সঙ্গে একইরকম ইউরেনিয়াম চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং পরিণামে গাদ্দাফিকে প্রাণ হারাতে হয়। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে ফেলছে ইরান।