ভোটের দিন অশান্তি হলেই চাকরি শেষ! আইসি-ওসিদের জন্য কমিশনের ‘ডেডলাইন’, কাঁপছে পুলিশ প্রশাসন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এক ফোঁটা রক্তপাতও সহ্য করা হবে না— এই বার্তাকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশের ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি করল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যদি কোথাও গোলমাল হয়, তবে তার দায় এড়াতে পারবে না রাজ্যের পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের চাকরি পর্যন্ত যেতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
টার্গেটে আইসি ও ওসি: শাস্তির তালিকা দীর্ঘ
কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিজ নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই এখন আইসি (IC) এবং ওসি (OC)-দের প্রধান অগ্নিপরীক্ষা। কর্তব্যে গাফিলতি ধরা পড়লে শাস্তির ধাপগুলো হবে অত্যন্ত কঠোর:
প্রথম ধাপ: তাৎক্ষণিক সাসপেনশন।
দ্বিতীয় ধাপ: বিভাগীয় তদন্ত ও কড়া শোকজ।
চূড়ান্ত ধাপ: সন্তোষজনক উত্তর না মিললে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত।
শুধুমাত্র থানার মেজবাবুই নন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং কমিশনারদেরও (CP) জবাবদিহি করতে হবে।
বোমা-গুলি উদ্ধার হলে আর রক্ষে নেই!
প্রশাসনিক বৈঠকে কমিশন সাফ জানিয়েছে, ভোটের দিন কোথাও অস্ত্র, বোমা বা গুলি উদ্ধার হলে বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হবে না। কোনো অভিযোগ আসার পর পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে তাকে ‘ইচ্ছাকৃত গাফিলতি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি, এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের কেন ধরা হয়নি, সেই রিপোর্টও তলব করেছে কমিশন।
সিভিক ভলান্টিয়ার ও প্রিসাইডিং অফিসারদের নিয়ে নতুন নিয়ম
ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে:
সিভিক ভলান্টিয়ার: ভোটের তিন দিন আগে সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ভোটের কোনো ডিউটিতে থাকতে পারবেন না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারলেও ইউনিফর্ম পরায় থাকবে কড়া নিষেধাজ্ঞা।
প্রিসাইডিং অফিসার: বুথে যাওয়ার আগে এবার প্রিসাইডিং অফিসারদের একটি বিশেষ ‘মুচলেকা’ দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই কর্মী মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে— তবে কি ভোটের যাবতীয় দায়ভার কর্মীদের ওপরই চাপিয়ে দিতে চাইছে কমিশন?
২০২৬-এর মহাযুদ্ধে বুথ দখল বা রিগিং রুখতে কমিশন যেভাবে ‘পুলিশি ছাঁটাই’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। এখন দেখার, এই কড়াকড়ির পর কতটা শান্তিতে সম্পন্ন হয় আগামীর ভোটপর্ব।