ভোটের আগে পুলিশের ঘুম ওড়ালো কমিশন! অশান্তি হলেই কড়া শাস্তি, ওসি-এসডিপিওদের জন্য জারি চরম বার্তা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত কড়া দাওয়াই দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোট প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন করতে এবার সরাসরি নিচুতলার পুলিশ আধিকারিকদের ওপর দায়বদ্ধতা চাপালো কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো এলাকায় অশান্তি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) এবং এসডিপিও (SDPO)-কেই নিতে হবে।

কমিশনের ‘ডেডলাইন’ ও কড়া হুঁশিয়ারি
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। পুলিশের উদ্দেশ্যে কমিশনের নির্দেশিকাগুলি হলো:

ব্যর্থতায় কড়া সাজা: যদি কোনো বুথে বা এলাকায় ভোট চলাকালীন অশান্তি রুখতে পুলিশ ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত তো হবেই, এমনকি তাঁদের বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

জিরো টলারেন্স নীতি: বোমা বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে বলা হয়েছে। এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা হিংসার ঘটনা ঘটলে প্রথম জবাবদিহি করতে হবে থানার মেজবাবু বা ওসি-কে।

সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশদের ভোট সংক্রান্ত ডিউটি থেকে দূরে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ ও কমিশনের নিরপেক্ষতা
ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং আয়কর দফতরের অতি-সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পুলিশের ওপর কমিশনের এই কঠোর নির্দেশিকা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

প্রশাসনের লক্ষ্য ‘ভয়মুক্ত ভোট’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে ভোটের দিনগুলোতে যে অশান্তির ছবি দেখা গেছে, তা রুখতেই এবার সরাসরি পুলিশ আধিকারিকদের ‘টার্গেট’ করছে কমিশন। এর ফলে নিচুতলার পুলিশ কর্মীরা অনেক বেশি সতর্ক থাকবেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের আগে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এবার দেখার, এই কড়াকড়িতে বাংলার বিধানসভা ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হয়।