মাঝসমুদ্রে মার্কিন গোলাবর্ষণ! ইরানের জাহাজে সরাসরি হামলা আমেরিকার, সব নাবিককে বন্দি করলেন ট্রাম্প!

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম। দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়ে গেল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। সমুদ্রপথে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজে বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ করল মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজের নাবিকরা এখন তাঁদের হেফাজতে।

তছনছ ইঞ্জিন রুম, বন্দি নাবিকরা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অবরোধ ভেঙে এগোতে চেয়েছিল ইরানি জাহাজটি। এরপরই শুরু হয় গোলাবর্ষণ। মার্কিন গোলার আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অপারেশন ‘অত্যন্ত সফল’ এবং আমেরিকা কোনোভাবেই ইরানের আধিপত্য মেনে নেবে না।

‘জলদস্যু’ আমেরিকা, গর্জে উঠল তেহরান
এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান সরকার। তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যু’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, “আমেরিকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, এর উপযুক্ত এবং ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে।”

ড্রোন বনাম মিসাইল: উত্তাল আরব সাগর
হুমকি দিয়েই থেমে থাকেনি ইরান। খবর মিলছে, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরীগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। একের পর এক কামিকাজে ড্রোন ধেয়ে আসছে মার্কিন নৌবহরের দিকে। যদিও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে মাঝসমুদ্রে পরিস্থিতি এখন কার্যত যুদ্ধের।

বিশেষজ্ঞদের মত: হরমুজ প্রণালির এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের বাজারে বড়সড় ধস নামাতে পারে। দুই দেশের এই ‘ইগোর লড়াই’ কি শেষ পর্যন্ত পরমাণু যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে? উৎকণ্ঠায় গোটা বিশ্ব।