“আত্মসমর্পণের টেবিলে যাব না!” ট্রাম্পের বোমাবর্ষণের হুমকির পালটা নয়া যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের!

সময় যত এগোচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের ঘড়ির কাঁটা ততই যুদ্ধের দিকে ঝুঁকছে। আজ সন্ধেবেলাতেই শেষ হতে চলেছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো চুক্তি ছাড়া যুদ্ধবিরতি শেষ হলে ইরানের ওপর “মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ” ঘটানো হবে। কিন্তু এই চরম হুমকির মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুল নড়তে নারাজ তেহরান।
চাপের মুখে আলোচনায় ‘না’
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবফ আজ এক বিস্ফোরক এক্স (টুইটার) পোস্টে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার নাম করে আসলে একটি “আত্মসমর্পণের টেবিল” তৈরি করছে। তাঁর সাফ কথা, চাপের মুখে বা হুমকির মুখে ইরান কোনো চুক্তিতে সই করবে না। গালিবফ আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আমেরিকা যদি হামলার তীব্রতা বাড়ায়, তবে ইরানও সম্পূর্ণ নয়া রণকৌশলে পালটা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত।
ইসলামাবাদে অনিশ্চিত বৈঠক
এদিকে শান্তি আলোচনা সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আজই ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন আলোচনার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, কিন্তু ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রতি তাঁদের কোনো ভরসা নেই। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডই আলোচনার পথে প্রধান বাধা।
কেন ভরসা পাচ্ছে না তেহরান?
ইরানের দাবি, একদিকে আমেরিকা শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানি জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এই দ্বিমুখী নীতির কারণেই তেহরান আলোচনার টেবিল বয়কট করার পথে হাঁটছে।
কি হতে চলেছে আজ রাতে?
সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলের দিকে। জেডি ভান্স পৌঁছানোর পর যদি ইরানের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত না হয়, তবে ট্রাম্পের দেওয়া ‘ভয়ঙ্কর পরিণতির’ হুমকি কি সত্যিই বাস্তবে রূপ নেবে? সন্ধের পর কি পারস্য উপসাগরের আকাশ মিসাইলের আলোয় জ্বলে উঠবে? আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব।