“শাড়ি সরিয়ে হাত দিত কোমরে, বলত জিরো ফিগার!” নাসিক TCS-এ মহিলা কর্মীর ওপর চরম যৌন লালসা!

কর্পোরেট জগতের ঝকঝকে আবরণের নিচে যে এত বড় অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। দেশের অন্যতম নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা TCS (Tata Consultancy Services)-এর নাসিক ইউনিটে মহিলা কর্মীদের ওপর হওয়া চরম যৌন হেনস্থার একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান সামনে আসছে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন তাঁর সেই ভয়ঙ্কর দিনলিপি, যেখানে শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে কুরুচিকর মন্তব্য— বাদ যায়নি কিছুই।

ট্রেনিং থেকেই শুরু ‘শিকার’ ধরা

ওই তরুণী জানান, ২০২৫ সালের জুনে তিনি অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। বিয়ের মাত্র এক মাস পরেই কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়ে তিনি ভেবেছিলেন সুন্দর এক ক্যারিয়ার গড়বেন। কিন্তু ট্রেনিং পিরিয়ড চলাকালীনই তাঁর ওপর নজর পড়ে লোন ব্রাঞ্চের লিড রজা মেননের। অভিযোগ, ট্রেনিংয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও রজা বারবার তাঁর কাছে আসত এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর প্রশ্ন করত।

তরুণীর দাবি, রজা তাঁকে বলত— “আপনার স্বামী তো দূরে থাকেন, সামলান কী করে? হানিমুনে কী কী করেছেন?” এমনকি স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে তাকে ‘শিখিয়ে দেওয়ার’ মতো কুপ্রস্তাবও দিত সে। আর এই গোটা ঘটনায় মদত দিত টিমের লিডার শাহরুখ কুরেশি।

“শাড়ি সরিয়ে কোমরে হাত…”

ট্রেনিং শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ওই মহিলার অভিযোগ, আসিফ আনসারি নামে এক সহকর্মী সব সময় তাঁর শরীরের ওপর হাত দেওয়ার সুযোগ খুঁজত। বয়ানে তিনি জানান:

“আসিফ ইচ্ছে করে আমার হাত ধরত, উরু বা কাঁধে হাত রাখত। একদিন ও আমার কাছে এসে গায়ের শাড়ি সরিয়ে পেট ও কোমরে হাত দিয়ে বলতে থাকে— তোমার তো জিরো ফিগার!”

এখানেই শেষ নয়, একদিন অফিস গ্যালারিতে ওই তরুণীকে একা পেয়ে আসিফ তাঁকে জাপ্টে ধরে বলেও অভিযোগ। প্রবল আতঙ্কে ওই সহকর্মীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান তরুণী।

সাইবার হ্যারাসমেন্ট ও ধর্মান্তকরণের ছক?

অফিসে পাত্তা না পেয়ে আসিফ ওই তরুণীকে ইনস্টাগ্রাম ও লিঙ্কডইনেও উত্যক্ত করতে শুরু করে। বারবার কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, ওই ইউনিটের অন্তত ৬ জন মহিলা কর্মীর অভিযোগ— তাঁদের ওপর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টাও চালানো হতো। হিন্দু দেবদেবী নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা ওই অফিসের এক শ্রেণির কর্মীদের রোজকার অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নাসিকের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। যে সংস্থাকে দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী স্বপ্নের কর্মস্থল মনে করে, সেই TCS-এর অন্দরে এমন পৈশাচিক আচরণের খবর সামনে আসায় প্রশ্নের মুখে নারী নিরাপত্তা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।