নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর ‘নো এন্ট্রি’ মুসলিম পাড়ায়? ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে যা বললেন বিরোধী দলনেতা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই আবারও শিরোনামে পূর্ব মেদিনীপুরের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। আর এই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরাসরি মুসলিম পাড়ায় ‘নো এন্ট্রি’ থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
মুসলিম ভোট কি ব্রাত্য?
এদিন নন্দীগ্রামের এক জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোট প্রচারে যাওয়ার বা তাদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ আগ্রহী নন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে নন্দীগ্রামের ভোটের মেরুকরণকেই উসকে দিতে চেয়েছেন। মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তাঁর ‘নো এন্ট্রি’ আদতে তাঁর কৌশলগত অবস্থান।
ভোটের সমীকরণ ও হিন্দু ঐক্যের বার্তা:
নন্দীগ্রামের ভোটের পাটিগণিত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা মূলত ‘হিন্দু সংহতি’র ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মুসলিম ভোট যদি কোনো নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকেও যায়, তবে হিন্দু ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ থাকলে নন্দীগ্রামে পদ্মশিবিরের জয় ঠেকানো অসম্ভব। তিনি বলেন:
“কারা ভোট দিল আর কারা দিল না, তাতে আমার যায় আসে না। আমি শুধু চাই সনাতনীরা একজোট হয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষা করুন।”
কেন এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামান্য ব্যবধানে হারিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন শুভেন্দু। সেবারও সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর ছিল। এবার চব্বিশের লোকসভা পরবর্তী পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ‘বিস্ফোরক’ স্ট্র্যাটেজি কি নন্দীগ্রামের ময়দানে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেবে, নাকি এর ফলে সংখ্যালঘু ভোট আরও বেশি করে তৃণমূলের দিকে সংহত হবে? সেটাই এখন দেখার।
নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক নাটক কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।