বিজনেসে বাম্পার হিট! দিঘার হোটেল-মার্কেটে কোটি কোটি টাকার লক্ষ্মীলাভ, খুশির হাওয়া পূর্ব মেদিনীপুরে

বাঙালির কাছে দিঘা মানেই এক সময় ছিল কেবল নোনা জল আর বালিয়াড়ি। কিন্তু ২০২৬-এর এই মরসুমে যেন ভোল বদলে গেছে দিঘার। পর্যটন দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কোটি ছাড়িয়েছে। আর এর ফলেই কার্যত ‘লটারি’ লেগেছে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ঝিনুক বিক্রেতা— সকলেরই।

কোন ম্যাজিকে এই পরিবর্তন? হঠাৎ কেন দিঘার প্রতি পর্যটকদের এই প্রবল টান? স্থানীয় প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে রয়েছে ৩টি বড় কারণ:

  • দিঘা-পুরী কানেক্টিভিটি ও ব্লু-ফ্ল্যাগ তকমা: দিঘার বেশ কিছু সৈকত এখন আন্তর্জাতিক মানের পরিচ্ছন্ন। বসার জায়গা, পর্যাপ্ত আলো এবং আধুনিক শৌচাগার দিঘাকে ফ্যামিলি ট্রিপের জন্য এক নম্বর করে তুলেছে।

  • বিলাসবহুল রিসোর্ট ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস: এখন আর শুধু সমুদ্র স্নান নয়, দিঘায় পর্যটকদের জন্য চালু হয়েছে প্যারাগ্লাইডিং, স্কুবা ডাইভিং এবং কায়াকিং। সেই সঙ্গে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ফাইভ-স্টার মানের রিসোর্ট, যা উচ্চবিত্ত পর্যটকদেরও আকর্ষণ করছে।

  • পরিবহণ বিপ্লব: প্রস্তাবিত মেরিন ড্রাইভ এবং দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়ের ফলে কলকাতা থেকে দিঘা পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দক্ষিণ ভারত বা দিল্লি থেকেও পর্যটকরা এখন কলকাতা হয়ে সরাসরি দিঘার প্যাকেজ ট্যুর বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি: দিঘা হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সপ্তাহান্তের ভিড় ছাড়িয়ে এখন সপ্তাহের সাত দিনই হোটেলের ঘর পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল মাছের বাজার বা হস্তশিল্পের বাজারেই দৈনিক কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। বিশেষ করে ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার পাশাপাশি মন্দারমণি এবং তাজপুরও এই ‘ট্যুরিজম বুম’-এর সুবিধা পাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পর্যটকদের এই ঢল সামলাতে আরও পার্কিং এরিয়া এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পর্যটন দপ্তর জানাচ্ছে, দিঘাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং দেশের সেরা ৩টি সমুদ্র সৈকতের মধ্যে নিয়ে আসাই এখন মূল লক্ষ্য।