FBI-তে হুলুস্থুল! নেশার কবলে ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল? দরজা ভেঙে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য হোয়াইট হাউসে

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা। খোদ সংস্থার ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা এবং পেশাদার আচরণ নিয়ে ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ৩৮ হাজার কর্মীর এই বিশাল সংস্থার প্রধানের বিরুদ্ধে মদ্যপানের নেশা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
লগ-ইন বিভ্রাটে ‘চাকরি যাওয়ার’ আতঙ্ক!
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ই এপ্রিল সপ্তাহান্তের ছুটিতে অফিস থেকে বেরোনোর সময় প্যাটেল লক্ষ্য করেন তিনি অফিসের কম্পিউটার সিস্টেমে লগ-ইন করতে পারছেন না। এক মুহূর্তেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ধরে নেন যে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তড়িঘড়ি সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠদের ফোন করে নিজের ‘বরখাস্ত’ হওয়ার খবর ছড়াতে থাকেন তিনি। যদিও পরে জানা যায়, সেটি ছিল নিছকই একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি (Technical Glitch)। একজন গোয়েন্দা প্রধানের এমন ‘প্যানিক অ্যাটাক’ দেখে সংস্থার কর্মকর্তারা স্তম্ভিত।
মদ খেয়ে নিখোঁজ, ভাঙতে হল দরজা
প্যাটেলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি হলো তাঁর অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে:
নেশার ঘোরে তিনি মাঝেমধ্যেই অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং কিছু সময়ের জন্য নিখোঁজ হয়ে যান।
একবার তিনি ঘরের ভেতর অচৈতন্য হয়ে পড়লে বাইরে থেকে নিরাপত্তা দল তাঁর সাড়া পায়নি। শেষমেশ বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করতে হয়।
তাঁর মাতাল অবস্থার কারণে বারবার গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং ও মিটিং বিলম্বিত হয়েছে।
পঙ্গু হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা?
অভিযোগ উঠেছে যে, প্যাটেল কোনো গভীর পর্যালোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা স্পর্শকাতর তদন্তগুলোকে বিপদে ফেলছে। এছাড়া অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ফলে সংস্থায় দক্ষ অফিসারদের আকাল দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মকর্তার আশঙ্কা, প্যাটেলের এই খামখেয়ালিপনা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে বাহ্যিক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার প্যাটেলের
অবশ্যই কাশ প্যাটেল এই সমস্ত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, প্যাটেল অপরাধ দমনে ভালো কাজ করছেন এবং তাঁর ইমেজ নষ্ট করতেই এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে প্যাটেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তা মার্কিন রাজনীতিতে এক বড়সড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।