“ফল ভুগতে হবে বিরোধীদের!” নারী সংরক্ষণ বিল ভেস্তে যাওয়ায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে গর্জে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিল (Constitution 131st Amendment Bill) পাস না হওয়ায় কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নিল। গত শুক্রবার প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পাওয়ায় বিলটি পরাজিত হওয়ার পর, শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি বৈঠকে বসে মোদী মন্ত্রিসভা। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী দলগুলোর নেতিবাচক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন।
বিরোধীদের ‘কালো দিন’ বলে কটাক্ষ প্রধানমন্ত্রীর
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী শিবিরের মনোভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “নারী শক্তিকে সম্মান জানানোর এই ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়ে বিরোধী দলগুলো গুরুতর ভুল করেছে। ভারতের নারী সমাজ এই অবমাননার জবাব ঠিক সময় দেবে এবং বিরোধীদের এর ফল ভোগ করতে হবে।” সরকারের দাবি, ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে এই বিলটি অত্যন্ত জরুরি ছিল।
কেন ভেস্তে গেল বিলটি?
সংসদে ভোটাভুটির সময় দেখা যায়, বিলটির পক্ষে ২৯৮ জন এবং বিপক্ষে ২৩০ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন। ৫২৮ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি (দুই-তৃতীয়াংশ) ভোট না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে এই বিলকে যুক্ত করে সরকার দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমাতে চাইছে।
শাসক দলের পাল্টা প্রচারের হুঁশিয়ারি
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই দিনটিকে ভারতের জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর এই ‘নারী বিরোধী’ মানসিকতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিজেপি ইতিমধ্যে দেশজুড়ে এই বিল পতনের প্রতিবাদে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ২০২৬-এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে এক বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।