“বুড্‌ঢা হোগা তেরা বাপ!” বার্ধক্যকে তুড়ি মেরে ওড়ানোর গোপন মন্ত্র ফাঁস করলেন অমিতাভ বচ্চন

বয়স কি শুধুই একটা সংখ্যা? অমিতাভ বচ্চনকে দেখলে এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসে। জীবনের ৮৩টি বসন্ত পেরিয়েও তাঁর তেজ আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে ঈর্ষণীয়। সম্প্রতি নিজের ব্লগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের উদ্দেশে এক বিশেষ জীবনদর্শন শেয়ার করেছেন ‘শাহেনশাহ’। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সুস্থ থাকতে হলে শরীর এবং মনের অলসতাকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে।

মোবাইল বডি, মোবাইল মাইন্ড:
অমিতাভর কথায়, ‘শরীর এবং মনকে কখনও স্থির হতে দেবেন না। তাদের সচল (Mobile) রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।’ বিগ বি মনে করেন, মানুষ যখনই নিজেকে ক্লান্ত ভাবেন বা ভাবেন তাঁর কাজ ফুরিয়ে গিয়েছে, তখনই বার্ধক্য তাঁকে গ্রাস করে। ৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ প্রতিদিন নিয়ম মেনে যোগব্যায়াম করেন এবং প্রচুর পড়াশোনা করেন। তাঁর মতে, নতুন কিছু শেখার চেষ্টা মনকে সচল রাখে, আর শারীরিক সঞ্চালন শরীরকে ‘জং’ ধরতে দেয় না।

অলসতাই আসল শত্রু:
নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদের অলস করে দিচ্ছে। কিন্তু সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। তিনি নিজে এখনও শুটিং সেটে সবার আগে পৌঁছান এবং স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেন। এই মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে বার্ধক্যের গ্লানি থেকে দূরে রেখেছে।

অশ্বত্থামা হয়েও জয় করেছেন মন:
কাজের ক্ষেত্রেও তিনি অপ্রতিরোধ্য। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল ব্লকবাস্টার ছবি ‘কাল্কি ২৮৯৮ এডি’-তে। অশ্বত্থামার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে সেই ছবির সিক্যুয়েলের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।

১৯৬৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ সফরে বারবার চোট পেয়েছেন, মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করেছেন, কিন্তু দমে যাননি বিগ বি। ভক্তরা বলছেন, অমিতাভর এই ‘মোবাইল বডি, মোবাইল মাইন্ড’-এর মন্ত্র কেবল শরীরচর্চার কথা বলে না, বরং জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখার এক গভীর দর্শন শেখায়।