সংসদে বড় ধাক্কা মোদি সরকারের! সংখ্যাতত্ত্বের প্যাঁচে আটকে গেল মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল

২০২৯ সালের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোতে গিয়ে বড়সড় হোঁচট খেল মোদি সরকার। লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে আনা হাই-ভোল্টেজ ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি সংসদে পাশ করাতে ব্যর্থ হলো শাসক পক্ষ। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি আপাতত ঠান্ডা ঘরে চলে গেল।

ভোটের সমীকরণ: কেন হারল সরকার?
শুক্রবার সংসদে যখন ভোটাভুটি শুরু হয়, তখন উপস্থিত ছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বিল পাশ করাতে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৩৫২টি (দুই-তৃতীয়াংশ) ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটির ফলাফলে দেখা যায়:

বিলের সপক্ষে ভোট: ২৯৮টি।

বিলের বিপক্ষে ভোট: ২৩০টি।
অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র ৫৪টি ভোট কম পাওয়ায় ঐতিহাসিক এই বিলটি আইনি বৈধতা পেল না।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম ও আসন পুনর্বিন্যাস
২০২৩ সালেই সর্বসম্মতিতে পাশ করানো হয়েছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। তবে এবারের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি ছিল আরও বেশি জটিল। এর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নারী সংরক্ষণকে দ্রুত কার্যকর করা, কিন্তু বিরোধীদের আপত্তিতে সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খেল।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই পরাজয়কে বিরোধীরা তাদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। তাঁদের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাসের আড়ালে কেন্দ্র রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, সরকারি শিবিরের দাবি— তারা মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর ছিল, কিন্তু বিরোধীদের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হলো না।

ভবিষ্যৎ কী?
বিলটি আটকে যাওয়ায় ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হলো। একইসঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। সংসদের এই ‘হার’ কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে, নাকি বিরোধীরা একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে— তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজধানীর অলিন্দে।