রাহুলের ফোনে অভিষেকের কড়া জবাব! দিল্লিতে কি এবার উল্টো পুরাণ? ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে বাড়ছে তৃণমূলের দাপট!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই জাতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠল একটি ফোন কল! শুক্রবার সংসদে মোদি সরকারের শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই ফোনালাপ কেবল সৌজন্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং অভিষেক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে দিল্লির মসনদ কাঁপানোর চাবিকাঠি থাকবে তৃণমূলের হাতেই।

রাহুলকে অভিষেকের ‘রিয়েলিটি চেক’
তৃণমূল সূত্রে খবর, রাহুল গান্ধীকে ফোনে অভিষেক সাফ জানান, এনডিএ (NDA) সরকারের আয়ু যে ফুরিয়ে আসছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তিনি মনে করিয়ে দেন, শাসনের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণের যে ‘ভ্রম’ তৈরি করা হয়েছিল, তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অভিষেক সূক্ষ্মভাবে রাহুলকেও সতর্ক করেছেন। কারণ, বাংলার ভোটপ্রচারে এসে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল, যা ভালো চোখে দেখেনি ঘাসফুল শিবির।

কেন জোটে ‘মমতা-ফ্যাক্টর’ অপরিহার্য?
ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্দরে কংগ্রেসের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে যখন শরিক দলগুলো সরব, তখন অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা হেমন্ত সোরেনদের মতো হেভিওয়েট নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রাজনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস— ৪ মে-র পর বিজেপি বিরোধী জোটের চালকের আসনে বসবেন মমতাই। মালদহ-মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব এবার জাতীয় স্তরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।

অভিষেকের ‘দিল্লি মিশন’
ভোটের প্রচার সামলানোর পাশাপাশি সংসদের রণকৌশলও স্থির করেছিলেন অভিষেক। দেব, সায়নী বা পার্থ ভৌমিকদের প্রচারের কাজে বাংলায় রেখে বাকি প্রায় সব সাংসদকে দিল্লিতে পাঠিয়েছিল তৃণমূল। শুক্রবার সকালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ঝাঁঝালো বক্তৃতা আসলে অভিষেকের তৈরি করে দেওয়া ‘ব্লু-প্রিন্ট’ অনুসারেই ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভবিষ্যৎ কী?
বাংলা ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন এবং আগামী বছরের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপিকে রুখতে তারা কেবল মাঠের লড়াইয়ে নয়, সংসদের অন্দরেও প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে তৈরি।

সংসদে বিল পাসে মোদি সরকারের ব্যর্থতা আর রাহুল-অভিষেকের এই ফোনালাপ— দুইয়ে মিলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের গুরুত্ব যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।