‘কৈসা হারায়া’ বলে বিদ্রূপ, এবার নিজেই জালের মুখে! ‘হিজাবি প্রধানমন্ত্রী’ হতে চাওয়া সাহারের পদ কি যাচ্ছে?

কথায় বলে, ‘অহংকার পতনের মূল’। মুম্বরার এআইএমআইএম (AIMIM) কর্পোরেটর সাহার শেখের ক্ষেত্রেও কি সেটাই ঘটতে চলেছে? পুরভোটে জেতার পর পরাজিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে হাসতে হাসতে “কৈসা হারায়া” (কেমন হারালাম) বলে বিদ্রূপ করেছিলেন তিনি। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এক সময় দলের সুপ্রিমো আসাদুদ্দিন ওয়েইসি তাঁকে ‘দেশের হিজাবি প্রধানমন্ত্রী’ হতে পারেন বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর’ বিরুদ্ধেই এখন জালিয়াতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ!

ঘটনাটি কী? থানে তহশিলদারের অফিস সূত্রে খবর, সাহার শেখের মনোনয়নপত্রে জমা দেওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) জাতি শংসাপত্রটি আসলে জাল। শুধু তাই নয়, তদন্তে দেখা গেছে শংসাপত্রের ফর্ম্যাট, স্বাক্ষর এবং নথিপত্রে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে। এই গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগে সাহারের বাবা ইউনুস ইকবাল শেখের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার সুপারিশ করেছে প্রশাসন।

শিকড় কোথায়? তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাহারের বাবা আদতে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে আসার পর তিনি ভুল ফর্ম ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেন এবং নিয়ম ভেঙে ওবিসি শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। সেই শংসাপত্রের জোরেই সাহার নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন থেকে লড়াই করেন এবং জয়ী হন।

পড়তে হতে পারে মহাবিপাকে: তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ওই শংসাপত্রটি অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আইনি মহলের মতে:

  • জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সাহার শেখের কর্পোরেটর পদ খারিজ (Disqualification) হতে পারে।

  • প্রতারণার অভিযোগে জেলেও যেতে হতে পারে বাবা ও মেয়েকে।

  • তাঁর নির্বাচনী জয় অবৈধ ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: নির্বাচন জেতার পর সাহার দম্ভভরে বলেছিলেন তিনি থানেকে ‘সবুজ’ রঙে রাঙিয়ে দেবেন। কিন্তু এখন তাঁর সেই দম্ভই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে যাঁরা জালিয়াতি করেন, তাঁদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এই ঘটনায় এখনও মুখ খোলেনি মিম (AIMIM) শিবির।