বাসন্তীতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা! দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে দুই হেভিওয়েট, নেপথ্যে কি বড় কোনো ‘গোপন চাল’?

নির্বাচনের ঠিক মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি না কি পরিকল্পিত চাল? তৃণমূলের অফিসিয়াল প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রির বিরুদ্ধে এবার নির্দল হিসেবেই মনোনয়ন জমা দিলেন খোদ দলেরই দুই দাপুটে নেতা-নেত্রী। আর এই ঘটনা ঘিরেই সরগরম হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের এই জনপদ।

ঘরশত্রু বিভীষণ? বিদ্রোহ চরমে
বাসন্তী ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌরী নস্কর এবং আমঝাড়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি অসীম সর্দার— দুজনেই তৃণমূলের পরিচিত মুখ। কিন্তু টিকিট না পেয়ে বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণের জেরে তাঁরা এবার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূলের এই প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে? সাধারণ ভোটারদের মনে এখন এটাই বড় প্রশ্ন।

বিজেপির দাবি: এটি ‘ভোট লুঠের’ কৌশল
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো কোন্দল নয়, বরং তৃণমূলের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা। তাঁদের অভিযোগ:

পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই বুথ দখল করতে দলের লোকেদের নির্দল হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে।

বিরোধীদের ভোট কাটতে এবং এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতেই এই সাজানো ‘বিদ্রোহ’।

রাজা গাজীর বিস্ফোরক মন্তব্য: ফাঁস হলো ‘কৌশল’?
বিরোধীদের এই আশঙ্কাকে যেন আরও উসকে দিলেন বাসন্তী ব্লকের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রাজা গাজী। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রহস্যময় হাসি হেসে বলেন:

“সব দলেরই তো একটা নিজস্ব পলিসি বা কৌশল থাকে।”

এখানেই থামেননি তিনি। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন যে, যাঁরা আজ নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা আদতে তৃণমূলেরই লোক এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভোট ‘জোড়া ফুলেই’ পড়বে।

রাজা গাজীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নির্দল প্রার্থীদের ব্যবহার করে কি বাসন্তীতে নতুন কোনো ‘খেলা’ হতে চলেছে? গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আড়ালে কি কোনো গোপন ছক কষছে ঘাসফুল শিবির? বাসন্তীর এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।