সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পিছু হটল কেন্দ্র? রাতারাতি ২০২৩-এর পুরনো ‘মহিলা সংরক্ষণ’ আইন কার্যকর করল মোদী সরকার

লোকসভায় সংখ্যার অংক মেলাতে না পেরেই কি তড়িঘড়ি পথ বদলাল মোদী সরকার? আজ সংসদে তিন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে ভোটাভুটির কথা। কিন্তু তার ঠিক আগেই, ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে গেল ২০২৩ সালের পুরনো ‘মহিলা সংরক্ষণ আইন’। আইন মন্ত্রকের এই ঝোড়ো গেজেট নোটিফিকেশন ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

কেন রাতারাতি পুরনো বিল কার্যকর?
২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি সংসদে পাস হয়েছিল এবং ২৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদনও দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় বলা হয়েছিল, কেন্দ্র সুবিধামতো সময়ে এটি নোটিফাই করবে। গতকাল সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার পর আজ ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:

সংখ্যার অভাব: বর্তমানে লোকসভায় এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। সংবিধান সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজন ৩৬২ জন সাংসদের সমর্থন। অর্থাৎ সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ৬৯ জন সাংসদ কম।

পুরনো বিল বাতিলের ভয়: নতুন সংশোধনী বিল পাস না হলে নিয়ম অনুযায়ী পুরনো বিলটিও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই সরকার তড়িঘড়ি পুরনো আইনটিকেই সরকারিভাবে কার্যকর করে দিল।

পুরনো বনাম নতুন: পার্থক্যের কারণ কী?
পুরনো এবং প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলের মধ্যে মূল বিরোধের জায়গা হলো ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস।

২০২৩-এর বিল: এতে বলা হয়েছিল, ২০২৭-এর জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হবে এবং তারপর সংরক্ষণ কার্যকর হবে।

নতুন সংশোধনী: কেন্দ্র চেয়েছিল ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতেই এখনই সংরক্ষণ কার্যকর করতে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব থাকায় তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলি।

ইন্ডিয়া জোটের শক্ত অবস্থান
ডিলিমিটেশন বিল রুখতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। আজ সকাল দশটায় ফের বৈঠকে বসছেন বিরোধী শিবিরের সংসদীয় দলের নেতারা। বিরোধীদের দাবি, সরকার আসলে মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।

সংসদে প্রয়োজনীয় ৩৬২টি ভোট নিশ্চিত করতে না পেরেই কি কেন্দ্র এই ‘সেফ প্যাসেজ’ নিল? আজকের ভোটাভুটির আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক দাবা খেলায় এক বড় চাল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।