যৌন হেনস্থার পর এবার সামনে এল ‘রিলিজিয়াস টর্চার’, টিসিএস-এ জোর করে টুপি পরানো হতো অমুসলিম কর্মীদের?

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর বিপিও শাখায় যৌন কেলেঙ্কারির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে হাড়হিম করা সব তথ্য। এবার এক হিন্দু পুরুষ কর্মীর বয়ানে সামনে এল চরম ধর্মীয় ও মানসিক নিপীড়নের ছবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কেবল নারী সহকর্মীরাই নন, পুরুষদেরও জোরপূর্বক নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং পরিবার নিয়ে কুরুচিকর আক্রমণ চালানোর এক পরিকল্পিত ‘সিন্ডিকেট’ চলছিল ওই অফিসের অন্দরে।

রুদ্রাক্ষের মালা নিয়ে বিদ্রূপ ও জোর করে কলমা পাঠ
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই আক্রান্ত কর্মী জানান, ২০২২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর অত্যাচার শুরু হয়। টিম লিডার তৌসিফ আখতার এবং সহকর্মী দানিশ শেখের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস। ওই কর্মী জানান:

তিনি রুদ্রাক্ষের মালা পরতেন বলে তাঁকে প্রতিনিয়ত উপহাস করা হতো।

২০২৩ সালের ইদের সময় তাঁকে জোর করে তৌসিফের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টুপি পরিয়ে নামাজ পড়তে এবং কলমা পড়তে বাধ্য করা হয়।

সেই ছবি অফিসের অফিশিয়াল গ্রুপে শেয়ার করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হয়।

“বাবাকে বাঁচাতে হলে ইসলাম গ্রহণ করো”
পৈশাচিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায় যখন ওই কর্মীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে আক্রমণ শুরু হয়। ওই কর্মীর বাবা অসুস্থ হলে অভিযুক্তরা দাবি করে যে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই তাঁর বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন। এমনকি ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান হওয়ায় অভিযুক্তরা অত্যন্ত কদর্য মন্তব্য করে বলে, “সন্তান চাইলে যেন তিনি তাঁর স্ত্রীকে অভিযুক্তদের কাছে পাঠিয়ে দেন।” এর প্রতিবাদ করায় ওই ব্যক্তির দিকে টেবিল ফ্যান ছুড়ে মারা হয় এবং তাঁকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়।

টিসিএস-এর অন্দরে গভীর ষড়যন্ত্র?
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের পথে ঠেলে দেওয়াই ছিল এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দানিশ শেখ, তৌসিফ আখতার এবং এইচআর এক্সিকিউটিভ নিদা খানসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৮ জন মহিলা কর্মীর করা শ্লীলতাহানির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই এই বিশাল অপরাধচক্রের হদিশ মেলে।

নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আইটি সেক্টরের মতো একটি পেশাদার ক্ষেত্রে এমন ‘রিলিজিয়াস টর্চার’ ও ‘সেক্স সিন্ডিকেট’ কীভাবে এতদিন ধরে চলল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওই সংস্থায় আর কতজন এমন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।