আমেরিকা-রাশিয়াও হার মানবে! ভারতের মা-বোনেদের আলমারিতে যা সোনা আছে, তার দাম জানলে চমকে যাবে বিশ্ব

অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে ভারত, তবে শুধু সরকারি ভাণ্ডারে নয়—আসল শক্তি লুকিয়ে আছে দেশের সাধারণ মানুষের আলমারিতে! এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতের প্রতিটি ঘরে ঘরে জমানো সোনার সম্মিলিত পরিমাণ এতটাই যে, তা অনায়াসেই আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি এবং রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলির জাতীয় স্বর্ণভাণ্ডারকে হার মানাতে পারে।
রেকর্ড গড়ল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সাধারণ গৃহস্থ:
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) সূত্রে খবর, গত মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে সোনা মজুতের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৩০.৬৮ বিলিয়ন ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা! কিন্তু আসল চমক অন্যত্র। রিপোর্ট বলছে, সারা বিশ্বে খনি থেকে উত্তোলিত মোট সোনার প্রায় ১১ থেকে ১৬ শতাংশ রয়েছে ভারতের সাধারণ গৃহস্থদের কাছে। বিনিয়োগের চেয়েও সোনাকে ‘লাইফস্টাইল’ ও সংস্কৃতির অংশ মনে করা এই দেশে ঘরে ঘরে জমেছে সোনার পাহাড়।
শেয়ার বাজারকেও টেক্কা দিচ্ছে সোনার রিটার্ন:
বিনিয়োগকারীদের মতে, ভারতের এই ‘স্বর্ণ সংস্কৃতি’ দেশের জিডিপি-কেও ১০০ শতাংশের বেশি হারে টপকে যেতে সাহায্য করেছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে:
-
সোনা: এক বছরে দাম বেড়েছে অবিশ্বাস্য ৭৬ শতাংশ।
-
রুপো: মুনাফার দিক থেকে সোনাকেও ছাপিয়ে গেছে রুপো। গত বছরে রুপোর দাম বেড়েছে ১৭০ শতাংশ! যা শেয়ার বাজারের বড় বড় মিউচুয়াল ফান্ডকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
-
গোল্ড ETF: যারা গয়না না কিনে ডিজিটাল সোনা বা ETF কিনেছিলেন, তাঁরাও পেয়েছেন প্রায় ৫৮.৮১ শতাংশ রিটার্ন।
আজকের বাজার দর (১৬ এপ্রিল, ২০২৬):
বৃহস্পতিবারও সোনার বাজারে আগুন। গ্রাম প্রতি সোনার দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে:
-
২৪ ক্যারেট (বিশুদ্ধ সোনা): ১৫,৩০০ টাকা প্রতি গ্রাম।
-
২২ ক্যারেট (গয়না সোনা): ১৩,৯২৩ টাকা প্রতি গ্রাম (ক্রয়মূল্য)।
-
১৮ ক্যারেট: ১১,৯৩৫ টাকা প্রতি গ্রাম।
এডিটোরিয়াল নোট: সোনার এই আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে, ভারতীয়রা কেন সোনাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করেন। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে যখন সবকিছু টালমাটাল, তখন দেশের সাধারণ মানুষের ঘরের এই গয়নাই হয়ে উঠছে ভারতের আসল ‘ইকোনমিক ব্যাকবোন’।