DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় তথ্য দিল রাজ্য! ৬৬৪৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, তবুও মিটছে না বকেয়া জট?

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নয়া মোড়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে, বকেয়া ডিএ মেটাতে ইতিমধ্যেই কোষাগার থেকে ৬,৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এই তথ্যে মন গলেনি আন্দোলনকারী কর্মীদের। বরং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে লড়াই আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ‘স্টেটাস রিপোর্ট’: কী আছে তাতে?
রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে একটি বিশদ স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে:
-
৫১৮৪ কোটি টাকা: ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ বাবদ এই বিপুল অর্থ ইতিমধ্য়েই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
-
তথ্য বিভ্রাট: সরকারের দাবি, ২০১৯ সালের আগের বছরগুলোর পর্যাপ্ত কম্পিউটারাইজড তথ্য বা ডেটা হাতে নেই, ফলে সেই হিসাব মেলাতে সমস্যা হচ্ছে।
-
পেনশনভোগীদের পাওনা: রাজ্য জানিয়েছে, যাদের তথ্য হাতে ছিল, সেই সব সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ওই ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিলি করা হয়েছে।
পাল্টা তোপ কর্মীদের, মামলা গড়াল আদালত অবমাননায়:
রাজ্যের এই যুক্তির পাল্টা সওয়াল করেন কর্মীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কর্মীদের প্রাপ্য মেটানো হয়নি। সেই কারণে সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মামলার জট কাটাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন:
-
কমিটির নজরদারি: প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে।
-
রিপোর্ট পেশ: এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী ১৫ মে-র মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
-
পরবর্তী শুনানি: মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ৬ই মে। অর্থাৎ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পরেই এই দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।
এডিটোরিয়াল নোট: দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ডিএ নিয়ে আইনি লড়াই ও রাজপথে আন্দোলন চালাচ্ছেন কর্মীরা। একদিকে রাজ্যের ‘টানাপোড়েন’ আর অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে মে মাসের শুনানির দিকে তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।