‘কমিশনেরও আপনাদের ওপর বিশ্বাস নেই’, আইএএস-আইপিএস বদলি নিয়ে কেন এমন কড়া কথা বললেন প্রধান বিচারপতি?

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত সেই মামলা শুনতেই চাইল না দেশের শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই বিষয়ে আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

‘রাজ্যের ওপর কমিশনের বিশ্বাস নেই’: পর্যবেক্ষণে কড়া সুর

মামলা চলাকালীন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, আগে আধিকারিক বদলির ক্ষেত্রে রাজ্যের পরামর্শ নেওয়া হতো, কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশন তা করেনি। এমনকি মুখ্যসচিবকেও যেভাবে সরানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন:

“রাজ্যের যেমন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই, তেমনই কমিশনেরও রাজ্যের নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর বিশ্বাস নেই। সেই কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যের পরামর্শ নিতেই হবে— আইনের কোথাও এমন বাধ্যবাধকতা নেই। যারা বদলি হয়েছেন, তারা তো অন্য রাজ্যের অফিসার নন; রাজ্যেরই অফিসারদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছে।

এক রাতে ১১০০ অফিসারের বদলি!

আদালতে দাবি করা হয়, নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১১০০ জন আধিকারিককে কার্যত ‘এক রাতের মধ্যে’ বদলি করা হয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানায়, কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এই বিষয়টি বিবেচনা করে মামলাটি খারিজ করেছে এবং সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের সেই নির্দেশেই সিলমোহর দিচ্ছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ভোটের ঠিক এই সন্ধিক্ষণে কমিশনের অফিসার বদলির সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট সিলমোহর দেওয়ায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে নির্বাচনের রাশ পুরোপুরি কমিশনের হাতেই থাকল।