৩০০০ টাকার ‘ঘুষ’ দিচ্ছে বিজেপি! ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ রুখতে কমিশনের দ্বারস্থ ডেরেক, চাপে কি গেরুয়া শিবির?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই এখন আর কেবল সভা-মিছিলে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রতিশ্রুতিতে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ আনতেই শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এই কার্ডের মাধ্যমে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের অভিযোগের তির: তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনে একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এবং স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। তৃণমূলের দাবি:

  • টাকার প্রলোভন: গত ১৫ এপ্রিল থেকে বিজেপি নেতারা মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফর্ম বিলি করছেন।

  • ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা: অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের টার্গেট করে এই ফর্ম পূরণ করানো আসলে ‘পরিকল্পিত ঘুষ’।

  • আইনি লঙ্ঘন: তৃণমূলের মতে, এই কাজ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি ‘দুর্নীতিমূলক কাজ’ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ কী? পয়লা বৈশাখের দিন বিজেপি এই প্রতীকী কার্ডটি চালু করে। গেরুয়া শিবিরের প্রতিশ্রুতি—বাংলায় তারা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রভাব কাটাতে এবং ভোটারদের নিজের দিকে টানতেই এই বড় অঙ্কের ভাতার টোপ দিয়েছে বিজেপি।

তৃণমূলের দাবি: চিঠিতে সরাসরি বলা হয়েছে, যেভাবে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা নগদে টাকা দেওয়ার কথা বলে মহিলাদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। অবিলম্বে শুভেন্দু অধিকারী এবং স্মৃতি ইরানিকে শোকজ করার এবং এই কার্ড বিলি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

রাজনৈতিক সমীকরণ: একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বৃদ্ধি, অন্যদিকে বিজেপির ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি—ভোটের ময়দানে এখন সবথেকে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী ভোট। তৃণমূলের এই অভিযোগের পর বিজেপি পাল্টা কী যুক্তি দেয় এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।