এলিয়েন অপহরণ নাকি গভীর ষড়যন্ত্র? আমেরিকায় ১০ দুঁদে বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু ও অন্তর্ধান ঘিরে তোলপাড় বিশ্ব!

তাঁরা কেউ নাসার (NASA) মহাকাশ গবেষক, কেউ আবার পরমাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞ। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমেরিকার ১০ জন ‘হাই-প্রোফাইল’ বিজ্ঞানীর পরিণতি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কারও গুলিবিদ্ধ দেহ মিলছে ঘরের ভেতরে, কেউ আবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। এই ঘটনার শিকড় কি ভিনগ্রহের প্রাণী বা ইউএফও (UFO)-র সঙ্গে যুক্ত? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে।
মুখ খুলল হোয়াইট হাউস: স্পর্শকাতর গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের এই মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো জো বাইডেন প্রশাসনকে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
কারা রয়েছেন এই রহস্য-তালিকায়? এই তালিকায় এমন সব নাম রয়েছে যা বিজ্ঞান জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে:
-
স্টিভেন গার্সিয়া: কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিওরিটি ক্যাম্পাসের প্রধান। ২০২৫ সালের অগাস্ট থেকে নিখোঁজ। বাড়িতে ওয়ালেট, চাবি সব পড়ে থাকলেও নিখোঁজ তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রটি।
-
ম্যাকাসল্যান্ড ও মনিকা: মার্কিন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাকাসল্যান্ড এবং তাঁর সতীর্থ মনিকা রেজার কোনো হদিস নেই। তাঁরা দুজনেই ‘স্পেস ওয়েপন’ বা মহাকাশ যুদ্ধাস্ত্র বিভাগে কাজ করতেন।
-
মাইকেল ডেভিড হিকস: নাসার এই প্রথিতযশা বিজ্ঞানীর হঠাৎ মৃত্যু হলেও আজও জানা যায়নি কারণ। এমনকি ময়নাতদন্তের রেকর্ড পর্যন্ত গায়েব!
-
জেসন টমাস: কয়েক মাস নিখোঁজ থাকার পর গত ১৭ মার্চ এক হ্রদের নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ।
এলিয়েন সংযোগ নাকি অন্য কিছু? অনেকেই মনে করছেন, এই বিজ্ঞানীরা হয়তো মহাকাশ বা এলিয়েন সংক্রান্ত এমন কোনো গোপন তথ্য জেনে ফেলেছিলেন যা ফাঁস হওয়া বিপজ্জনক। এফবিআই-এর (FBI) প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস সোয়েকার অবশ্য এলিয়েন তত্ত্ব পুরোপুরি মানতে নারাজ হলেও তিনি স্বীকার করেছেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো বড় রহস্য লুকিয়ে আছে।
তদন্তকারীদের বয়ান: তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ ‘ফাউল প্লে’ বা অপরাধের প্রমাণ না পেলেও, এতগুলো সমজাতীয় ঘটনার কোনো সাধারণ সংযোগ (Link) আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন। মার্কিন কংগ্রেসের গোপন বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মহাকাশ বিজ্ঞানের এই ‘ডার্ক চ্যাপ্টার’ কি কোনো বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত? উত্তর খুঁজছে সারা বিশ্ব।