বারবার মোবাইল হ্যাং হওয়ায় বিরক্ত? সেটিংসের এই ছোট্ট বদলেই কেল্লাফতে, জেনে নিন স্মার্ট উপায়

দামী ফোন হোক বা বাজেটের স্মার্টফোন— সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করলে কিছুদিন পরেই তা স্লো হতে শুরু করে। বারবার স্ক্রিন আটকে যাওয়া বা হ্যাং হওয়া আমাদের প্রতিদিনের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, মাত্র কয়েকটি সহজ নিয়ম মানলে আপনার পুরনো ফোনও কাজ করবে সুপারফাস্ট? জেনে নিন ফোনকে ‘রকেটের গতি’ দেওয়ার ৮টি জাদুকরী উপায়।

১. নিয়মিত রিস্টার্ট দিন

ফোনকে দীর্ঘক্ষণ সচল রাখলে এর হার্ডওয়্যার ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনটি সুইচ অফ করে অন করুন বা রিস্টার্ট দিন। এতে সিস্টেম রিফ্রেশ হয় এবং ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।

২. ক্যাশে ডেটা বা ‘জাঙ্ক ফাইল’ সাফ করুন

ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রচুর পরিমাণে ক্যাশে ডেটা জমা হয়। নিয়মিত সেটিংস থেকে এই ক্যাশে মেমোরি পরিষ্কার করলে প্রসেসর হালকা থাকে এবং হ্যাং হওয়ার প্রবণতা কমে।

৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করুন

ফোনে এমন অনেক অ্যাপ থাকে যা খুব একটা ব্যবহার করা হয় না, অথচ ব্যাকগ্রাউন্ডে রম (RAM) দখল করে রাখে। ফোনের বোঝা কমাতে আজই এই অদরকারি অ্যাপগুলো আনইনস্টল করুন।

৪. মেমোরি খালি রাখুন

ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ একদম ফুল করে রাখবেন না। মেমোরি ৮০ শতাংশের বেশি ভর্তি হয়ে গেলে প্রসেসর ধীরগতির হয়ে যায়। বড় ভিডিও বা ফাইল ক্লাউড স্টোরেজ বা এসডি কার্ডে সরিয়ে ফেলুন।

[Image: A smartphone showing a ‘cleaning’ animation or speed boost]


৫. সফটওয়্যার আপডেট রাখুন

পুরনো ভার্সনের সফটওয়্যারে অনেক সময় ‘বাগ’ থাকে যা ফোনকে স্লো করে দেয়। কোম্পানি যখনই নতুন সিস্টেম আপডেট দেবে, তখনই তা ইনস্টল করে নিন। এতে গতি ও নিরাপত্তা দুই-ই বাড়বে।

৬. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করুন

একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপ খুলে রাখবেন না। কাজ শেষ হলে অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ করুন। অনেকগুলো অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকলে রম-এর ওপর চাপ পড়ে এবং মোবাইল হ্যাং করতে শুরু করে।

৭. অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিন

ফোনের ডেভেলপার অপশন থেকে ‘উইন্ডো অ্যানিমেশন স্কেল’ কমিয়ে ০.৫এক্স (0.5x) করে দিলে ফোন অনেক দ্রুত কাজ করে। এটি বিশেষ করে পুরনো ফোনের জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ দেয়।

৮. ‘লাইট’ ভার্সন অ্যাপ ব্যবহার করুন

ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপগুলো প্রচুর জায়গা ও ব্যাটারি খরচ করে। আপনার ফোনের কনফিগারেশন কম হলে সেগুলোর ‘লাইট’ (Lite) ভার্সন ব্যবহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

উপসংহার: আপনার স্মার্টফোনটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, এরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। উপরের এই ছোটখাটো কৌশলগুলো মেনে চললেই আপনার মোবাইল থাকবে সবসময় ঝরঝরে ও সুপারফাস্ট!