“উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করে দেব!” জলপাইগুড়ি থেকে মমতার গুন্ডাদের শেষ হুঁশিয়ারি অমিত শাহের!

বাংলার ভোটযুদ্ধের ময়দান এবার কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল। বৈশাখের তপ্ত রোদের মাঝেই জলপাইগুড়ির সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাসকদলের তথাকথিত ‘গুন্ডাবাহিনী’ থেকে শুরু করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী— কাউকেই রেয়াত করলেন না তিনি। শাহের সাফ কথা, আগামী ২৩ এপ্রিল হবে সব অন্যায়ের চূড়ান্ত হিসাব।
“উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করব!”
এদিন সভামঞ্চ থেকে শাহের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন:
“মমতাদির গুন্ডারা শুনে রাখো, ২৩ তারিখের পর তোমাদের খুঁজে বের করব। উল্টো করে টাঙিয়ে সোজা করে দেব! জনগণের ওপর অত্যাচার করার দিন এবার শেষ।”
ভোটের আগে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এমন ‘অ্যাকশন’ধর্মী মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের ভোটারদের ভয় কাটাতে এবং আত্মবিশ্বাস জোগাতেই শাহের এই রণংদেহী মূর্তি।
জনগণের প্রতি আহ্বান: “আপনারা পদ্ম খুঁজুন”
সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে অমিত শাহের আবেদন অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বলেন, ভোটারদের কাজ শুধু ইভিএমে পদ্ম প্রতীক খুঁজে ভোট দেওয়া। বাকিটা দেখার দায়িত্ব তাঁর দলের। শাহের কথায়:
-
জনগণের কাজ: নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা।
-
বিজেপির কাজ: ভোট পরবর্তী সময়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ‘গুন্ডাদের’ উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া।
কেন ২৩ এপ্রিল এত গুরুত্বপূর্ণ?
আসন্ন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের রাজনীতির জন্য এক বড় দিন। শাহের দাবি, এই দিনটিই হবে তৃণমূলের অপশাসনের অবসরের সূচনা। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো মমতা সরকার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। এই ‘বঞ্চনার’ জবাব দিতেই পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন তিনি।
[Image: Amit Shah pointing a finger aggressively during a rally in Jalpaiguri]
উত্তরবঙ্গে বিজেপির দাপট
নববর্ষের পর এই প্রথম বড় কোনো জনসভা করল বিজেপি। জলপাইগুড়ির সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, উত্তরবঙ্গে নিজেদের জমি আরও শক্ত করতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। শাহের এই আগ্রাসী মেজাজ তৃণমূলের জন্য যে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শাহের ‘উল্টো করে টাঙানো’র মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল শিবির। তবে সাধারণ মানুষের নজর এখন ২৩ এপ্রিলের দিকে— সেদিন ব্যালট বক্সে কার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটাই দেখার।